কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। এরপর শিয়রে সংক্রান্তি জোড়াফুল শিবিরের। রাজ্যের সিংহাসন হারাতেই কখনও বোর্ড ভেঙে যাচ্ছে, কখনও কাউন্সিলররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আবার কখনও দলের তাবড় তাবড় নেতারাই বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন। এই আবহে তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে শুরু হল আরও জোরদার জল্পনা। কারণ, মঙ্গলবার অধ্যক্ষের ঘরের সামনে দেখা গেল এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর সেখানেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে দুই তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি ঘিরে জোর জল্পনা ছড়ায়। 'গত পনেরো বছরের ভুল সংশোধন করতে সমস্যা কোথায়?'- তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ঋতব্রতর। ঘুরিয়ে দলীয় বিধায়কের সমালোচনায় তৃণমূল বিধায়ক। যদিও, দুই বিধায়কই সবটা সৌজন্য’ সাক্ষাৎ বলেই বিতর্ক ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে তাঁদের বাকি মন্তব্যে জল আরও ঘোলা হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এদিন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর ঘর থেকে বেরিয়ে এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, “সৌজন্য বিনিময় হয়েছে। তাঁর আন্ডারেই আমি রাজনীতি করতাম। দেখা হল, কথা হল। বিশেষ কিছু নয়। দল তো প্রোটেকশন দিতে পারছে না। আর সেই জন্য নিচুতলার আমাদের মত কর্মীরা প্রশ্নের মুখে পড়ছি। এর কোনও সদুত্তর দিতে পারছি না। দল থেকে তো নির্দেশ দিতে হবে আমরা কোন পথে এগোব! সেই সব কিছুই পাচ্ছি না তো নিচু তলার কর্মীদের কী পথ দেখাব।”
ঋতব্রতর মন্তব্যও কিন্তু দলবদলের জল্পনাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, “আগের দিন স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাইনি। এমনিও আমরা লাস্ট বেঞ্চার। পার্টিতেও লাস্ট বেঞ্চার। অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করব বলে চেয়েছিলাম। ওনাকে ধন্যবাদ দেখা করেছেন বলে। কথা হয়। আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করব বলে জানাই। সেইসময় ঘটনাচক্রে মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। পনেরো বছর কোনও কাজ যদি না হয় আর তা যদি কোনও সরকার করতে চায়, অসুবিধা নেই।”
তাঁর সংযোজন, “গত পনেরো বছরের যে ধারাবাহিকতা তাতে এটা আশা ছিল না শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বিরোধীদের ডাকবেন। কিন্তু তাঁরা ডাকছেন। ফলে এটা ওয়েলকাম মুভ। যে ভালো, জোর করে খারাপ বলতে পারব না। আমি সংসদের লাস্ট বেঞ্চে বসতাম। লোকে বলে আমার পারফর্মেন্স খুব ভালো। লাস্ট বেঞ্চে বসে কাটিয়ে দিয়েছি। সন্দীপনও লাস্ট বেঞ্চার।”
তবে, এটা কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ? নাকি নেপথ্যে অন্য রহস্য? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কারণ এর আগেও দিল্লীতে বঙ্গভবনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল ঋতব্রতর। হেসে কথা বলেছিলেন দু'জনে। তখনও তৃণমূল বিধায়ক বলেছিলেন, সবটাই ছিল হঠাৎ সাক্ষাৎ। কিন্তু এই 'হঠাৎ' ঘিরেই দানা বাঁধছে রহস্য।

No comments:
Post a Comment