কলকাতা: সন্দেশখালিতে ইডির ওপরে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার শেখ শাহাজাহান ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল নেত্রী। ধৃতদের নাম সবিতা রায় এবং মিঠু সর্দার। ধৃত সবিতা রায় বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভানেত্রী এবং সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী। অন্যদিকে মিঠু সর্দার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভানেত্রী তথা একই পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। ২০২৪ সালে সন্দেশখালিতে ইডির ওপর হামলার ঘটনায় এই বড় পদক্ষেপ পুলিশের।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রেশন দুর্নীতির তদন্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া না পেয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তখনই ইডি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে শেখ শাহজাহানের নামে ওঠে স্লোগান।
দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া সেই ঘটনায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে ন্যাজাট থানার পুলিশ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ইডির ওপরে হামলা ছাড়াও ভোট পরবর্তী হিংসা, এলাকায় অশান্তি পাকানো সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে ধৃত দুজনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে দুজনকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ইডির ওপর হামলা মামলায় তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার ঘটনায় আরও কারা জড়িত ছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সন্দেশখালির এই ঘটনা নিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শাহজাহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি করে ইডি। এরপর শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ আছড়ে পরে রাস্তায়। দফায় দফায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। ঘটনার ৫৫ দিন পর শেষ পর্যন্ত মিনাখাঁ থেকে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশ।
সন্দেশখালির সেই 'বেতাজ বাদশা' শেখ শাহজাহান বর্তমানে জেলে। কিন্তু তার তৈরি অপরাধ সাম্রাজ্যের শিকড় উপড়ে ফেলতে কড়া অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির খোদ সভানেত্রী ও কর্মাধ্যক্ষ পদমর্যাদার দুই নেত্রীর এই গ্রেফতারি বসিরহাট মহকুমার শাসক শিবিরে এক বিশাল ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

No comments:
Post a Comment