কলকাতা: নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের দুর্গতির শেষ নেই। একসময়ের প্রভাবশালী নেতা-নেত্রীরা আজ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ দলীয় পদ ছাড়ছেন, কেউ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন। এবারে সেই তালিকায় জুড়লেন আরও একজন; তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শান্তনু। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন।
বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বলেন, "আমি জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলের সঙ্গে ছিলাম। দল আমায় যখন যে দায়িত্ব দিয়েছিল আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করে গেছি। দল আমায় জাতীয় মুখপাত্র করেছিল, এমন বহু ঘটনা যে ঘটনাকে সমর্থন করা যায় না, মন সায় দেয় না। সাধারণ মানুষ সমর্থন করে না, তা জেনেও শুধু দলের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে সেই বিষয়গুলিতে দলের পক্ষে থেকে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছি। সাধারণ মানুষ এর জন্য আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছেন, আমাকে হজম করতে হয়েছে।"
তাঁর বক্তব্য, "রাজনীতিটা মানুষের জন্য, সেই বাংলার মানুষ গত ৪ মে বিপুল জনাদেশের মাধ্যমে যখন বুঝিয়ে দিলেন চাকরিচুরি, আরজি কর কাণ্ড, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা রায় দিয়েছেন, তখন সেই রায়কে মাথা পেতে নিয়ে হার স্বীকার করা উচিৎ। আর সেটা স্বীকার করে আমার মন আর কোনওভাবেই সম্মতি দেয় না যে এই দুর্নীতিগুলোকে সমর্থন করতে হবে। তাই আজকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী তথা এ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জাতীয় মুখপাত্র পদের ইস্তফাপত্র পাঠালাম।"
উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে অভিনন্দন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন শান্তনু। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি ও ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের বর্তমান রাজ্য সম্পাদক হিসাবে বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
এমনকি, আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা এবং হাসপাতালের সার্বিক দুর্নীতি নিয়ে বুধবারেই ফের মুখ খুলেছেন শান্তনু সেন। তিনি জানান, তদন্তে শুভেন্দুর সরকারকে যেকোনওভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত। এরপরই বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠালেন শান্তনু।
সম্প্রতি বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বেসুরো হতে শোনা যায়। ইতিমধ্যেই দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। ওদিকে কলকাতা পুরসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়েছেন অরূপ চক্রবর্তী, সুশান্ত ঘোষ। এছাড়াও জেলায় জেলায় অনেক কাউন্সিলর সরে দাঁড়িয়েছেন দলের পাশ থেকে। এবারে একই পথে হাঁটলেন শান্তনু সেনও।

No comments:
Post a Comment