সংসদে অপমান! কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে নালিশ কাকলির - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, May 28, 2026

সংসদে অপমান! কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে নালিশ কাকলির


কলকাতা: নির্বাচনে ভরাডুবির পাওয়ার তৃণমূলে ভাঙনের সুর ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে। বারাসাত সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পথ ছেড়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই সঙ্গে দলের সব পথ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। এবারে লোকসভার স্পিকারের কাছে দলেরই আরেক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। 


কাকলির অভিযোগ, সংসদের ভিতরে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে স্পিকার (ওম বিড়লা) যেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, অভিযোগপত্রে সেই আবেদন করেছেন কাকলি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবী, এটা আসলে আফটারশক। এদিকে, নিজেরই দলের সাংসদের বিরুদ্ধে কাকলির এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরের ফাটল আরও চওড়া হল বলেই মনে করছেন রাজনীতির বিশ্লেষকরা। 


লোকসভার মুখ্য সচেতন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে বেসুরো কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বদলে মুখ্য সচেতক করা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে সরব হচ্ছেন কাকলি। 



ইতিমধ্যেই দলের একাধিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সম্প্রতি মুখ খোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। মহিলা সাংসদদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন কল্যাণের বিরুদ্ধে। গালিগালাজেরও অভিযোগ তোলেন। কিন্তু, পাল্টা কল্যাণের অভিযোগ, কাকলির মুখেই শোনা যায় কু-কথা। এবার ওই একই অভিযোগ তুলে স্পিকারের দ্বারস্থ হলেন কাকলি।


২৮ তারিখে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠানো অভিযোগ পত্রে কাকলি লেখেন, “আপনার কাছ থেকে লোকসভার সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফর্ম্যাল অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চাইছি। লোকসভার ভিতরে আমাকে বারবার মৌখিকভাবে অপমান করা হয়েছে। এই ধরণের নারীবিদ্বেষী আচরণ শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেও হয়েছে। এর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।” 


কাকলির এই প্রতিক্রিয়া আফটারশক হিসেবে দেখছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি কোনও চিঠি পাইনি। স্পিকার যদি এই বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা চান, তাহলে তিনি উত্তর দিয়ে দেবেন। এটা শুধুমাত্র নিজের বাজারদর বাড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।” তাঁর প্রশ্ন, চিঠিতে আজকের তারিখ অর্থাৎ ২৮ মে-র উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, আজ ছুটি, কীভাবে তিনি অভিযোগ করলেন? কল্যাণ আরও বলেন, “অভিযোগ থাকলে আগে কেন জানানো হয়নি? এতদিন পর কেন জানানো হচ্ছে? প্রথম বিষয় হল এই অভিযোগ মিথ্যে। আর এটা আফটারশক।”


এদিকে নিয়ম অনুযায়ী, দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা দলের কাছে প্রথমে জানাতে হয়। সেখানে, খাতায়-কলমে সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো উচিৎ ছিল। কিন্তু সেটা না জানিয়ে কেন সরাসরি স্পিকারের দ্বারস্থ হলেন কাকলি, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, আইপ্যাককে বিঁধেছেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কেমন যেন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একদিকে দলের সমস্ত পদ থেকে সরে এসেছেন আবার অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। যদিও তিনি দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেছেন, কিন্তু তাঁর এহেন বিদ্রোহী মনোভাব ভিন্ন সংকেত বহন করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad