'হাইকমান্ড বলেছে---', মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা সিদ্দারামাইয়ার - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, May 28, 2026

'হাইকমান্ড বলেছে---', মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা সিদ্দারামাইয়ার


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ মে ২০২৬: ইস্তফা দিলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন কর্নাটকের দীর্ঘতম সময় দায়িত্বে থাকা এই কংগ্রেস নেতা। একইসঙ্গে এদিন সকালে নিজের সরকারি বাসভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিদ্দারামাইয়া পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান এবং সেখানেই স্পষ্ট করেন, তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে ডিকে শিবকুমারই দায়িত্ব নেবেন।


কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর আজ একটি সংবাদ সম্মেলনও করেন সিদ্দারামাইয়া। তাঁর সঙ্গে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও উপস্থিত ছিলেন। সিদ্দারামাইয়া বলেন যে, তাঁর কাছে রাজ্যের স্বার্থই সর্বাগ্রে। তিনি আরও জানান যে, তাঁর এই সিদ্ধান্তে সমস্ত বিধায়ক একমত।


এরই মাঝে, সিদ্দারামাইয়া একটি বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, "হাই কমান্ড আমাকে রাজ্যসভায় যেতে বলেছিল, কিন্তু আমি বিনীতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণ আমাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন। আমি এখানেই থাকব এবং রাজনীতি করব। আমি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকব। আমি সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।"



সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দারামাইয়া বলেন, "হাইকমান্ড আমাকে আগেই পদত্যাগ করতে বলার পর আমি আজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, রাজ্যপাল এলে তিনি এটি গ্রহণ করবেন, কারণ সংবিধান অনুযায়ীই এটি করা উচিৎ।"


সিদ্দারামাইয়া আরও বলেন, "রাজ্যপাল এখন বেঙ্গালুরুতে নেই। তাঁর দফতর থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যে তিনি আজ রাতে দেরিতে পৌঁছাবেন। তাই, আমি তাঁর দফতরে তাঁর সচিবের কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।"

তিনি বলেন যে, রাজ্যপাল ফিরে এসে আমার পদত্যাগপত্র অনুমোদন করবেন। আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত এবং তাঁকে তা করতেই হবে। সিদ্দারামাইয়া আরও বলেন যে, 'রাজ্যের স্বার্থই আমার কাছে সর্বাগ্রে।'


সিদ্দারামাইয়া বলেন, "আমাদের কাছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সুতরাং, আমাকে (মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে) সরকার গঠনের অনুমতি দেওয়া সাংবিধানিকভাবে বৈধ। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।"


গত তিন বছর ধরে সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমারের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে চলা টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। কংগ্রেসের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব একাধিকবার সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, এমনকি সরকার টিকিয়ে রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতির নিষ্পত্তি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। 


পদত্যাগের পর বেঙ্গালুরুর মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের বাইরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বহু সমর্থক চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কেউ তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন, কেউ আবার 'সিদ্দারামাইয়া জিন্দাবাদ' স্লোগান তোলেন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সিদ্দারামাইয়া বলেন, 'দলের স্বার্থই সর্বাগ্রে। সংগঠনের ঐক্য বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'


এছাড়াও এদিন সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দারামাইয়া বলেন, "আমি কখনও আধিকারিক বা অর্থের পেছনে ছুটিনি কিংবা কোনও সম্পত্তিও অর্জন করিনি। ভোটারদের সেবা করাই আমার অগ্রাধিকার। আমি ৫০ বছর ধরে রাজনীতিতে আছি। আমার রাজনৈতিক জীবন একটি খোলা বইয়ের মতো।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad