দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন। এর দু'দিন আগেই নির্বাচন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। ফলতায় ভোটে লড়ছেন না জাহাঙ্গীর। প্রচারের শেষ দিনেই সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী। এর আগে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কড়া মেজাজে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানকে। সিংঘম বলে পরিচিত আইপিএস অজয় শর্মার সঙ্গে একেবারে চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। বলেছিলেন, 'উনি সিংঘম হলে আমরাও পুষ্পা। ঝুঁকেগা নেহি।' সেই পুষ্পাই কিনা আজ নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন!
এদিন তাঁর দাবী, 'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেজন্য ২১ মে পুননির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।' তিনি বলেন, 'সোনার ফলতা হোক, এটাই আমার স্বপ্ন ছিল।'
উল্লেখ্য, গ্রেফতার হতে পারেন, আশঙ্কা জানিয়ে সোমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ২৬ শে মে পর্যন্ত জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে কোন কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই মর্মে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাঁচটি এফআইআর-এর ওপর রক্ষাকবচ দেন বিচারপতি। তবে শর্তও বেঁধে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের তরফে জানানো হয়েছিল, কমিশনের সব নির্দেশ জাহাঙ্গীরকে মেনে চলতে হবে। ভোটারদের ভোট দিতে বাধা বা কোনও হুমকি তিনি দিতে পারবেন না। তবে, এর একদিন পরেই নির্বাচনে লড়াই না করার কথা জানালেন জাহাঙ্গীর খান। পুননির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলেন বলেই জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী।
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ইভিএম কারচুপির অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা উত্তাল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এই কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচনে নির্দেশ দেয় কমিশন।

No comments:
Post a Comment