প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যয়! ৫০-এর বেশি মৃত্যু, গাছ-খুঁটি উপড়ে অন্ধকারে একাধিক এলাকা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, May 13, 2026

প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যয়! ৫০-এর বেশি মৃত্যু, গাছ-খুঁটি উপড়ে অন্ধকারে একাধিক এলাকা

 


ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৩ মে ২০২৬: প্রবল ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডব উত্তরপ্রদেশে। বুধবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে কার্যত বিধ্বস্ত রাজ্যটি। ঘূর্ণাবর্তের এবং দক্ষিণ রাজস্থান থেকে আসা পূবালি হাওয়ার যুগলবন্দিতে ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি, যেটি এদিন বিকেলে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আঘাত হানে। প্রবল ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় এখনও (প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড় এতটাই প্রবল ছিল যে শত শত গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি এবং সাইনবোর্ড উপড়ে যায়, যার ফলে যান চলাচল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।


সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চল এবং প্রয়াগরাজ বিভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভাদোহিতে ১০ জন এবং মির্জাপুরে একজন বয়স্ক ব্যক্তি-সহ মোট ১১ জন প্রাণ হারান। ভাদোহির ঔরাইতে একটি মন্দিরের দেওয়াল ধসে দুই মহিলা-সহ চারজন মারা যান। এদিকে, প্রয়াগরাজে সন্ধ্যার এই ঝড়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাতজন গ্রামীণ এলাকার এবং তিনজন প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। সিদ্ধার্থনগরেও টিনের চালা ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


মধ্য উত্তর প্রদেশে ঝড়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ফতেহপুরেই সর্বাধিক আটজনের মৃত্যু হয়েছে। উন্নাওতে তিনজন, হারদোইতে দুজন এবং ঝাঁসি ও কানপুর দেহাতে একজন করে মারা গেছেন। সকাল ১১টায় রোহিলখণ্ডের বরেলি বিভাগে আঘাত হানা ঝড়ে মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বাদাউনে ছয়জন এবং বরেলিতে চারজন।


ঝড়ের তাণ্ডব চলে অবধ অঞ্চলেও; সীতাপুরে গাছ পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং রায়বরেলিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরী-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রায়বরেলীর ডালমাউতে একটি রেলগেট ভেঙে পড়েছে এবং লালগঞ্জে একটি গাড়ির ওপর গাছ পড়েছে। মোরাদাবাদ বিভাগের সম্ভলে দেওয়াল ও খুঁটি ধসে এক মহিলা-সহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে আমরোহায় আটজন আহত হয়েছেন। এই বিভাগে ২৫০টিরও বেশি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় গ্রামীণ এলাকা পুরো অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছে। 


প্রবল ঝড়ে বারাণসী-শক্তিনগর সড়কের সাইনবোর্ডগুলো উল্টে যাওয়ায় রাস্তায় যান চলাচল ঘুরিয়ে দিতে হয়েছে। গোরখপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ধূলিঝড়সহ হালকা বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, বায়ুমণ্ডলে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের ত্রাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অবিলম্বে সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।


আবহাওয়া দফতরের মতে, বৃষ্টি সত্ত্বেও রাজ্যের অনেক অংশে তাপমাত্রা বেড়েছে। ফলে, বুন্দেলখণ্ডের বান্দায় আজ তাপমাত্রা ৪৫.৪ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে এবং রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad