কলকাতা: সদ্য সন্তানকে হারিয়েছেন। বাড়িতে কান্নার রোল। শোকে পাথর চন্দ্রনাথ রথের মা। ছেলের এই নৃশংস পরিণতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথ। ছেলের মৃত্যুর জন্য তৃণমূলের দিকেই অভিযোগের তির ছুঁড়লেন তিনি। যদিও অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবী করছেন না তিনি, তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড যেন হয়, চাইছেন সদ্য সন্তান হারানো মা।
সংবাদমাধ্যমে হাসিরানি বলেন, 'আমি একজন মা। আমি চাইব না ওদের ফাঁসি হোক। কিন্তু আমি তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই। বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই ওরা এটা করেছে। আমাদের রাজ্য সভাপতি এবং নেতারা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বারবার বলছেন।'
তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে তৃণমূল নেতারা গরম গরম কথা বলেছিলেন। সেই কথারই ফল ফলছে এখন। হাসিরানি বলেন, 'যারা গরম গরম কথায় বলেছিল, ৪ তারিখের পরে দিল্লীর কোনও বাপ রক্ষা করতে পারবে না, তারা তা করে দেখিয়ে দিল। আমার ছেলে যদি দুর্ঘটনায় মারা যেত, তাহলে আমার এত দুঃখ হতো না। দুষ্কৃতকারীরা যেভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে, এই সবই তৃণমূলের বানানো গল্প। শুভেন্দু বাবু মমতা ব্যানার্জীকে হারানোর পর থেকেই আমার পরিবার এমন বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।'
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গাড়ির মধ্যে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। পুলিশের সন্দেহ, চন্দ্রনাথ খুনে ভিন রাজ্যের যোগ রয়েছে। ভিন রাজ্য থেকে এসেছিল শার্প শুটার। আততায়ীর খোঁজে ভিন রাজ্যে যাচ্ছে তদন্তকারী সিআইডি টিম। বিমানবন্দরের সিসিটিভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহ ফ্লাইটেই পালাতে পারে আততায়ীরা। তদন্তে এসটিএফ, সিআইডি ও আইবিকে নিয়ে গড়া হয়েছে সিট।
এদিকে ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। রাতেই হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার-সহ রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনী পরাজয়ের পর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। হতাশা থেকেই তারা এমন আচরণ করছে। তারা এখন শুভেন্দু অধিকারীকে একটি বার্তা দিতে চাইছে, কার্যত বলতে চাইছে- দেখুন, আমরা কী করতে পারি।'
শুভেন্দু অধিকারীও রাতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, এটা পূর্বপরিকল্পিত-ঠাণ্ডা মাথায় খুন। অভয়ার মতো যাতে বিচারহীন না থাকে, তার ব্যবস্থা করবেন বলেও কড়া বার্তা দেন জানান শুভেন্দু।
ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত বলেন, "আমরা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। অপরাধে ব্যবহৃত গাড়িটি আমরা বাজেয়াপ্ত করেছি, তবে খবর পাওয়া গেছে যে গাড়িটির লাইসেন্স প্লেট নকল এবং বিকৃত করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে তাজা ও ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

No comments:
Post a Comment