কলকাতা: 'রাজনীতিতে গুণ্ডাদের নিয়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার ফল সকলকে ভুগতে হচ্ছে', শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে খুনের ঘটনায় এভাবেই আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এদিন ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "যারা বলছে হিংসা হচ্ছে, তারা কিন্তু হিংসা থামাচ্ছে না। কালকে বলেছি এগুলো যদি না থামে, তাহলে তার প্রতিরোধ-প্রতিকার হবে। সেরকম প্রস্তুতি নেওয়া হোক।"
দিলীপ ঘোষ বলেন, "বিজেপি সারা ভারতবর্ষে রাজ করছে। প্রতিটি নির্বাচনে জিতছে, কাউকে না ধমকানো-চমকানো, না গায়ে হাত তোলা। আমরা কারও জিনিসপত্র লুট করি না। ১৫ বছর ধরে মানুষকে যারা অত্যাচার করেছে, সেই নিয়ে মানুষের মনে ক্ষোভ আছে, সেটা বেরিয়ে গেছে। কোনও হিংসা-অত্যাচার চলবে না। গুলি-বন্দুকের সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করব। আমার মনে হয় এটা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের দেখার দায়িত্ব, যাতে আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকে।"
মমতাকে তোপ দেগে দিলীপ বলেন, "যিনি পুলিশ মন্ত্রী, তিনি ড্রামা করতে ব্যস্ত। তিনি জীবনে কোনও দিন সফলভাবে কিছু করেননি। গত ইলেকশনে বলেছিলেন 'তিনদিন আমি ছিলাম না'। এবার কি বলবেন? এখন তো চিরদিনের জন্য চলে যাবেন আপনি। মানুষের জীবনের সুরক্ষা কে দেবে! এই যে গুন্ডাদের নিয়ে এসেছেন রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ফল সকলকে ভুগতে হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ ও তাঁর গাড়ির চালক। দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গাড়িচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই গুলি কাণ্ডে তৃণমূলের দিকে অভিযোগ তুলেছে পদ্ম শিবির। রাতেই হাসপাতালে যান শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার-সহ রাজ্যের শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এটা পূর্বপরিকল্পিত, ঠাণ্ডা মাথায় খুন। এর বিচার হবে। ওদিকে সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চন্দ্রনাথের মা। তাঁর শুধুই মনে পড়ছে '৪ তারিখের পরের' সেই হুঁশিয়ারি। তিনি চাইছেন অভিযুক্তদের ফাঁসি নয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হোক।
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রনাথের মা বলেন, 'যারা গরম গরম কথায় বলেছিল, ৪ তারিখের পরে দিল্লীর কোনও বাপ রক্ষা করতে পারবে না, তারা তা করে দেখিয়ে দিল। আমার ছেলে যদি দুর্ঘটনায় মারা যেত, তাহলে আমার এত দুঃখ হতো না। দুষ্কৃতকারীরা যেভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে, এই সবই তৃণমূলের বানানো গল্প। শুভেন্দু বাবু মমতা ব্যানার্জীকে হারানোর পর থেকেই আমার পরিবার এমন বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি একজন মা। আমি চাইব না ওদের ফাঁসি হোক। কিন্তু আমি তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।'

No comments:
Post a Comment