দুর্গাপুর; বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের জালে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি। আদালত চত্বরে তাঁকে দেখেই উঠল 'চোর চোর' স্লোগান। শুধু তাই নয়, জুতো পর্যন্ত দেখানো হয় তৃণমূল নেতাকে। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
দুর্গাপুর নগর নিগমের বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার রাজীব ঘোষ। তিনি দলের ব্লক সভাপতিও। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। ভোট পরবর্তী হিংসার পুরনো মামলায় দুর্গাপুরে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে। এদিন রাতে দুর্গাপুর শহরের ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি রাজীব ঘোষ, যিনি দুর্গাপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলরও, স্থানীয় এক বিজেপি নেতার ব্যক্তিগত অফিসে দেখা করতে যান। বিজেপি কর্মীরা তাঁর উপস্থিতির কথা জানতে পেরেই ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সহ-সভাপতি স্বর্ণেন্দু হালদারের অভিযোগ, রাজীব ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বিরোধী কর্মীদের হুমকি এবং টাকা তোলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিজেপির দাবী, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বহু বিজেপি সমর্থক আক্রান্ত ও ঘরছাড়া হন এবং সেই ঘটনাগুলিতে তাঁর নাম উঠে এসেছে। বিজেপি নেতা বলেন,' রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজীব ঘোষ নিজের পিঠ বাঁচাতে বিজেপির দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার কনভেনার সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আসেন। তিনি জানান, এরপরেই দলের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে উপস্থিত হন এবং রাজীবকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পাশাপাশি দুর্গাপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে, ঘটনাস্থল থেকে ওই তৃণমূল নেতাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দুর্গাপুর থানায়।
বৃহস্পতিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। অভিযোগ, আদালত চত্বরে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রাজীব ঘোষ-কে জুতো দেখিয়ে “চোর চোর” স্লোগান দেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিজেপির দাবী, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, তোলাবাজি ও রাজনৈতিক অত্যাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজীব ঘোষ। জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। ধৃতের কড়া শাস্তির দাবী জানান তাঁরা।

No comments:
Post a Comment