কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। এরপরেই দলের অন্দরে যেন মুষলপর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের বিরুদ্ধে এবারে প্রকাশ্যেই মুখ খুললেন বারাসতের সাংসদ তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। 'আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম', শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট কাকলির। উল্লেখ্য, একদিন আগেই লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে তাঁকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলনেত্রী। তারপর এদিন সকালে এই তাঁর পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বাম নেতা শতরূপ ঘোষ।
তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামের অতীত মনে করিয়ে এদিন চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার লেখন, '৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।' কোনও বিষয় উল্লেখ না করলেও তিনি যে ওই পুরষ্কার প্রসঙ্গ তুলে দলকেই কটাক্ষ করেছেন, সেটা বোঝার জন্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
এদিকে কাকলির এই পোস্ট নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বাম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি সমাজমাধ্যমে তৃণমূল সাংসদের পোস্টের ছবি দিবে লেখেন, 'দলে থেকে কাজ করতে পারছেন না।'
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার মতো শক্ত ঘাঁটিতেও তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। ৩৩টির মধ্যে মাত্র ৯টি আসন এসেছে জোড়াফুলের দখলে। বারাসত-সহ আশপাশের বেশিরভাগ বিধানসভা কেন্দ্রেই বিজেপি জয়ী হয়েছে। এরপরই দলের তরফে বারাসতের সাংসদের ডানা ছাঁটা হয়। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বদলে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক পদে ফিরিয়ে আনা হবে বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনিই চিফ হুইপের দায়িত্ব সামলাবেন।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ৪২-এর মধ্যে ২৯ টি আসন জয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় দল সাজিয়ে দিয়েছিলেন। মুখ্য সচেতক করা হয়েছিল বর্ষীয়ান সাংসদ তথা দলের বহু পুরনো নেতা, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। লোকসভার দলনেতা ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৫ সালে সংসদীয় দলে রদবদল করা হয়। দলনেতার দায়িত্ব পান ডায়মন্ড হারবারের তিনবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য সচেতক পদে কল্যাণের পরিবর্তনে বসানো হয় বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কিন্তু ছাব্বিশে ভরাডুবির পর ফের কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকে ওই পদে আনা হল। আর এতেই সম্ভবত ক্ষুব্ধ বর্ষীয়ান সাংসদ।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই আগে ভোটে হারের পর দলের 'নিষ্ক্রিয়তা' নিয়ে সমাজমাধ্যম পোস্টে কটাক্ষ করেছিলেন কাকলির ছেলে। এবার নিজেই দলকে বিঁধলেন বারাসতের সাংসদ।



No comments:
Post a Comment