'গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ', রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য জারি নির্দেশিকা নিয়ে সরব অভিষেক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, May 21, 2026

'গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ', রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য জারি নির্দেশিকা নিয়ে সরব অভিষেক


কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবারে সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, সব ক্ষেত্রেই সরকারি আধিকারিকদের ওপর এবার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হল। দ্রুত এই নির্দেশিকা কার্যকর করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, এটা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ। 

'নীরবতা এখন একটি প্রশাসনিক আবশ্যকতা', সমাজমাধ্যমে খোঁচা তৃণমূল সাংসদের। সেইসঙ্গে বিজেপিকেও এক হাত নিয়েছেন তিনি। 


উল্লেখ্য, মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল সরকারি আধিকারিকদের জন্য এই নির্দেশিকা জারি করেন। এই নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত দফতর কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এই নির্দেশিকা দ্রুত কার্যকর করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি ভাবে তৈরি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানেও যোগদানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।


রাজ্যে সকল আইএএস, ডবলিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস-এর আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশিকা বহাল রয়েছে।


এছাড়াও, কোনও সংবাদমাধ্যমে সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র প্রকাশ করাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী সংবাদপত্র, পত্রিকায় লেখালেখি, কোনও পত্রিকা সম্পাদনা, পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়ম ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অযথা সমালোচনা করা ও নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এই নিয়ে পোস্ট করেছেন তিনি। নির্দেশিকার কিছু অংশে আলোকপাত করে অভিষেক লেখেন, “সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। এই সার্কুলারে এই বাক্যটি একটি সতর্কবার্তার মতো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে - সুশাসন রক্ষার জন্য নয় বরং সমগ্র বাংলা জুড়ে সরকারি কর্মচারীদের ওপর নীরবতা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য।"


তিনি লিখেছেন, "সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলা যাবে না। প্রবন্ধ লেখা যাবে না। সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে না। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সমালোচনা করা যাবে না। দিল্লীর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে এমন কোনও মতপ্রকাশ করা যাবে না। বিজেপিইন্ডিয়ার রিমোট-নিয়ন্ত্রিত শাসনে, নীরবতা এখন একটি প্রশাসনিক আবশ্যকতা।"


তিনি আরও লেখেন, "এই চমকে দেওয়ার মত সার্কুলারটি শৃঙ্খলার জন্য নয়, এটি দিল্লীতে বসে থাকা প্রভুদের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য নিশ্চিত করার জন্য বাকস্বাধীনতা খর্ব করা এবং পদ্ধতিগতভাবে মৌলিক অধিকারের গলা টিপে ধরার একটি প্রয়াস। সংক্ষেপে: যেমন বলা হবে তেমনটাই ভাবুন। অনুমতি পেলে তবেই বলুন। যখন কোনও সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, তখন তারা ভিন্নমত দমন করতে শুরু করে। এটা শক্তি নয় - এটা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ!"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad