আলোচনা সভায় ডেকে তৃণমূল নেতাকে মারধর, মৃত্যু - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, June 7, 2026

আলোচনা সভায় ডেকে তৃণমূল নেতাকে মারধর, মৃত্যু


পূর্ব বর্ধমান: গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে ডাকা আলোচনা সভায় তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মারধর। ৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর রবিবার প্রাণ গেল অঞ্চল সভাপতির। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে। পুরাতনহাট তলায় গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে ডাকা মিটিংয়ে মারধরের শিকার হন পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি মিহির ঘোষ। গুরুতর জখম অবস্থায় টানা ৮দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্ধমানের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআই দায়ের করা হয়েছে।ৎঅভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।


পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মিহির ঘোষের বয়স ৬২ বছর, পেশায় কৃষক। পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের বাসিন্দা এবং মঙ্গলকোট অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। তাঁর ছেলে প্রবীর ঘোষ জানান, গত ৩০ মে কয়েকজন বাসিন্দা তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান মিটিংয়ে পুরাতন হাটতলায়। সেখানে মিটিং শেষে লাইট বন্ধ করে তার উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। পরিকল্পিতভাবে ইট, লাঠি, অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।


এলাকার একটি বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে পুরাতনহাট ধর্মরাজতলায় একটি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মিটিংয়েই বচসার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেধড়ক মারধরের জেরে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মঙ্গলকোট প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হয়। এরপর সেখান থেকে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়।


সেখানে টানা আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরাতনহাট গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবারের তরফে মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে। মারধরের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল কর্মী বুদ্ধদেব পাল বলেন, "আমাদের দলেরই অন্য দুই সদস্যকেও একইভাবে মারধর করা হয়। কোনওরকমে রক্ষা পেয়ে যাই আমরা।" তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক হওয়ার জন্য বিজেপির উন্মত্ত জনতা তাঁকে পিটিয়ে মেরেছে।


অন্য দিকে, বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, "এখনও বিস্তারিত জানিনা পুরো বিষয়টা। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তদন্ত চলুক।" তাঁর কথায়, "যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। আমাদের রাজ্য সভাপতি বা মুখ্যমন্ত্রী সালিশিসভা বা বিরোধী দলের কর্মীদের মারধর করতে নিষেধ করেছেন। তাই দেখতে হবে এটা তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিনা। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস বা সিপিএমের লোকেরা এই ধরনের কাজ করে থাকে।"


এদিন মৃতদেহ ময়নাতদন্ত হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান মৃতর পরিবার।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad