কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই একের পর এক ধাক্কা তৃণমূলে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একে একে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূল প্রধান থেকে শুরু করে কাউন্সিলর, এমনকি প্রাক্তন মন্ত্রীও। চুরি, তোলাবাজি, দুর্নীতি বিভিন্ন অভিযোগে একের পর এক নেতা পাকড়াও। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রেও দেখা গেল একই চিত্র; প্রথমে সুদীপ পোল্লে। তারপর সচিন সিং। এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর। কলকাতা পৌরনিগমের আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে কলকাতা পৌরনিগমের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎকে গ্রেফতার করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন এই নিয়ে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছিল বিরোধীদের। কিন্তু, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে। আর রাজ্যে পালাবদলের পরই একের পর এক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলর তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হল অরিজিতের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ জুন গড়ফা থানায় অরিজিৎ দাস ঠাকুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগে দাবী করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হচ্ছিল। স্থানীয় প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, গড়ফা থানার পুলিশ প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ডেকে পাঠায়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে।
সম্প্রতি অরিজিৎকে তৃণমূল নিজেদের আইটি টিমে বড় পদ দিয়েছিল। তিনি তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শহরতলির নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের ছেলে। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছিল। এবার অভিযোগ পাওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল গড়ফা থানার পুলিশ।
কলকাতা পৌরনিগমে প্রথম ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে কয়েকদিন আগে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর মঙ্গলবারেই গ্রেফতার করা হয় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সচিন সিংকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার অভিযোগে গত ২৭ মে নারকেলডাঙা থানার একটি মামলায় সচিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযোগকারী আদর্শ পাণ্ডে দাবী করেন, ২০২১ সালের ৪ মে বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ সচিন কুমার সিং-সহ আরও কিছু লোকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে, বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে অভিযুক্ত সচিন কুমার সিংকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তৃণমূলের অন্দরে দোলাচলের মধ্যেই একের পর এক নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন।

No comments:
Post a Comment