আতঙ্কের নাম ফুচকা! মুখে দিয়েই অসুস্থ ১১৫ শিশু, হাসপাতালে ১২ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, July 16, 2026

আতঙ্কের নাম ফুচকা! মুখে দিয়েই অসুস্থ ১১৫ শিশু, হাসপাতালে ১২


ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ জুলাই ২০২৬: ফুচকা খেয়ে অসুস্থ বহু শিশু। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। রাজস্থানের কোটা জেলার দিগোড় মহকুমার সিমলিয়া এলাকার পোলাই খুর্দ গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা। অভিযোগ, ফুচকা খেয়ে এখানে প্রায় ১১৫ জন শিশুর বমি, ডায়রিয়া ও পেটে ব্যথায় কাতর। ঘটনায় গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই শিশুদের মধ্যে ১২ জনকে হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের গ্রামে স্থাপিত একটি স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিমলিয়া থানার অন্তর্গত পোলাই খুর্দ গ্রামের শিশুরা এক স্থানীয় পথবিক্রেতার কাছ থেকে পানি-পাতাসা (ফুচকা) খেয়েছিল। অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরেই তাদের তীব্র পেটে ব্যথা, ক্রমাগত বমি এবং ডায়রিয়া শুরু হয়। শিশুদের স্বাস্থ্যের একের পর এক অবনতি হতে দেখে গ্রামবাসীরা অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) এবং ব্লক প্রধান চিকিৎসা কর্তা (বিসিএমও), ডঃ রাজেশ সমর, চিকিৎসকদের একটি দল নিয়ে অবিলম্বে পোলাই খুর্দ গ্রামে পৌঁছান। গুরুতর অসুস্থ এক ডজনেরও বেশি শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে অবিলম্বে সিমলিয়া কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) ভর্তি করা হয়, যেখানে তারা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। বাকি শিশুদের গ্রামের একটি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


মহকুমা আধিকারিক দীপক মাহাওয়ার এবং বিসিএমও ডঃ রাজেশ সমর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁদের নির্দেশনায় একটি ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স-সহ দুটি মেডিকেল টিম গ্রামে পাঠানো হয় এবং আক্রান্ত শিশুদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা হয়।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে গ্রামে একটি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কোনও আক্রান্ত শিশু যাতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এএনএম এবং আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ রোগীদের ওপর নিরন্তর নজর রাখছে।


ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর কোটার চিফ মেডিকেল অফিসার ডঃ নরেন্দ্র নগরও পোলাই খুর্দে পৌঁছে চিকিৎসা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যেন ক্ষতিগ্রস্ত সকল শিশুকে সময়মতো চিকিৎসা প্রদান করা হয়।


প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, ফুচকা বিক্রেতা ব্যক্তিটি শোলি গ্রামের বাসিন্দা। এরপর খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফুচকায় ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রী এবং জলের নমুনা সংগ্রহ করে। যেখান থেকে জল ভরা হয়েছিল, সেখান থেকেও জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।


বিসিএমও ডঃ রাজেশ সমর জানান যে, মঙ্গলবার রাত থেকে শিশুরা হাসপাতালে আসতে শুরু করে। বর্তমানে বেশিরভাগ শিশুর অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই শিশুদের অসুস্থতার কারণ স্পষ্ট হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad