নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর দিনাজপুর: ইসলামপুর শহরের নিষিদ্ধপল্লীতে ফের বড়সড় অভিযান চালাল ইসলামপুর থানার পুলিশ। অভিযানে ৪ জন নাবালিকা-সহ মোট ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মানব পাচার ও নাবালিকাদের যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগের তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ইসলামপুর থানার পুলিশ যৌনপল্লীর একাধিক বাড়িতে একযোগে তল্লাশি চালায়। সেই সময় সেখান থেকে ৪ জন নাবালিকা-সহ মোট ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের বয়স যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সন্ধান ও কীভাবে তারা সেখানে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানব পাচার চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিনের এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী তথা ইংলিশ বাজারের প্রাক্তন বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। অভিযান শেষে তিনি বলেন, “নাবালিকাদের নিয়ে এই ধরণের অপরাধ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মানব পাচার এবং যৌন শোষণের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। আমরা এই ইস্যুতে কোনওরকম আপস করব না।”
তিনি আরও বলেন, "সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের উচিৎ এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া এবং সন্দেহজনক কোনও তথ্য পেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো।" শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সকলকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নাবালিকাদের পরবর্তীতে শিশু কল্যাণ কমিটির (সিডব্লিউসি) কাছে পেশ করা হবে। পাশাপাশি তাদের কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ইসলামপুরের নিষিদ্ধপল্লীতে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর আগেও একাধিক নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছিল এবং কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবী, মানব পাচার ও নাবালিকাদের যৌন শোষণের সঙ্গে জড়িত চক্রকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, পরপর এই ধরণের উদ্ধার অভিযানের ঘটনায় ইসলামপুরে মানব পাচার চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তাঁরা। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment