মূত্রাশয়ের (Bladder) ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। কিন্তু অনেকেই প্রস্রাবে রক্ত, বারবার প্রস্রাবের বেগ বা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়ার মতো লক্ষণকে সাধারণ সংক্রমণ ভেবে এড়িয়ে যান। ফলে রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা করালে এই ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
মূত্রাশয়ের ক্যান্সার কী?
মূত্রাশয় হল শরীরের এমন একটি অঙ্গ, যেখানে কিডনি থেকে আসা প্রস্রাব জমা থাকে। এই অঙ্গের ভেতরের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে মূত্রাশয়ের ক্যান্সার তৈরি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি মূত্রাশয়ের অভ্যন্তরীণ আবরণে থাকা ইউরোথেলিয়াল কোষ থেকে শুরু হয়।
কোন লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেবেন?
মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলি হলো—
প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া (ব্যথা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে)
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
তলপেট বা কোমরের নিচের অংশে ব্যথা
বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ হওয়া
এই উপসর্গগুলির যেকোনও একটি দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
ধূমপান
বয়স ৫৫ বছরের বেশি
রং, রাবার, চামড়া বা রাসায়নিক শিল্পে দীর্ঘদিন কাজ করা
দীর্ঘস্থায়ী মূত্রাশয়ের সংক্রমণ
পরিবারে এই ক্যান্সারের ইতিহাস
অতীতে কিছু ধরনের কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন নেওয়া
এর মধ্যে ধূমপান সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত।
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। প্রয়োজন হলে প্রস্রাব পরীক্ষা, সিস্টোস্কোপি (ক্যামেরার সাহায্যে মূত্রাশয়ের ভিতর দেখা), বায়োপসি এবং সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসা কী?
রোগের পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি বা একাধিক চিকিৎসা একসঙ্গে প্রয়োগ করা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার ফল অনেক ভালো হয়।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?
ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করুন।
পর্যাপ্ত জল পান করুন।
রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে কাজ করলে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।
প্রস্রাবে রক্ত বা অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, বিশেষ করে যাঁদের ঝুঁকি বেশি।
সতর্কবার্তা
প্রস্রাবে একবারও রক্ত দেখা গেলে তা কখনও অবহেলা করবেন না। সব ক্ষেত্রেই এটি ক্যান্সার নয়, তবে কারণ নির্ণয়ের জন্য দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে মূত্রাশয়ের ক্যান্সার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা করা সম্ভব।
দায় অস্বীকার (ডিসক্লেইমার)
প্রেসকার্ড নিউজ-এ প্রকাশিত সকল সংবাদ, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল ও তথ্য শুধুমাত্র পাঠকদের তথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো তথ্যকে চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করবেন না। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রকাশিত তথ্য ব্যবহারের সম্পূর্ণ দায় পাঠকের নিজস্ব।

No comments:
Post a Comment