ব্রেস্ট ক্যান্সার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ক্যান্সারের অন্যতম। তবে সুখবর হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা পড়লে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা সম্ভব। তাই সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় উপায়।
ব্রেস্ট ক্যান্সার কী?
ব্রেস্ট ক্যান্সার হলো স্তনের কোষের অস্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধি। এই কোষগুলো ধীরে ধীরে একটি টিউমার তৈরি করতে পারে এবং চিকিৎসা না হলে শরীরের অন্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ
*স্তনে নতুন গিঁট বা শক্ত অংশ অনুভব হওয়া
*স্তনের আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন
*স্তনের ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা কমলালেবুর খোসার মতো হয়ে যাওয়া
*বোঁটা (নিপল) ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
*বোঁটা থেকে রক্ত বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া
*স্তন বা বোঁটার চারপাশে লালচে ভাব, খোসা ওঠা বা ঘা
বগলের নিচে গিঁট বা ফোলা
*দীর্ঘদিন ধরে একপাশের স্তনে অস্বাভাবিক ব্যথা বা অস্বস্তি
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
৪০ বছরের বেশি বয়সী নারী
পরিবারের কারও ব্রেস্ট বা ওভারি ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে
স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন
শারীরিক পরিশ্রম কম করা
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান
দীর্ঘদিন হরমোন থেরাপি নেওয়া
অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া বা দেরিতে মেনোপজ হওয়া
তবে মনে রাখতে হবে, ঝুঁকির কারণ না থাকলেও ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে।
কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
চিকিৎসক প্রয়োজনে নিম্নলিখিত পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন—
স্তনের শারীরিক পরীক্ষা
ম্যামোগ্রাম
আল্ট্রাসাউন্ড
এমআরআই (বিশেষ ক্ষেত্রে)
বায়োপসি (ক্যান্সার নিশ্চিত করার জন্য)
চিকিৎসা:
প্রতিরোধে কী করবেন?
প্রতি মাসে নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ম্যামোগ্রাম করুন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
স্তনে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
স্তনে গিঁট মানেই ক্যান্সার নয়। অনেক গিঁটই নিরীহ (Benign) হতে পারে। তবে নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো। যত দ্রুত রোগ ধরা পড়বে, সফল চিকিৎসার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।
ডিসক্লাইমার: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। স্তনে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসক বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

No comments:
Post a Comment