বর্ষার শুরুতেই বাতাসে আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে ভাব অনেক বেড়ে যায়। এই পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাস দ্রুত বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই এই সময় মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশি, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, পেটের সংক্রমণ এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।
অনেকেই বর্ষাকালে ছোটখাটো অসাবধানতার কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অথচ সামান্য সতর্কতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এসব রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
১. সবসময় ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে জল পান করুন
বর্ষাকালে পানীয় জলের উৎস এবং পাইপলাইনে সহজেই দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবী মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের জল পান করলে টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পেটের সংক্রমণ হতে পারে।
তাই বর্ষাকালে সবসময় জল ভালোভাবে ফুটিয়ে বা নির্ভরযোগ্য ফিল্টারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করে পান করুন। বাইরে বের হলে শুধুমাত্র বিশ্বস্ত সংস্থার বোতলজাত জল ব্যবহার করুন।
২. রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন
বর্ষার সময় রাস্তার ধারের খোলা খাবারে খুব দ্রুত জীবাণু জন্মায়। মাছি, ধুলোবালি ও আর্দ্রতার কারণে এসব খাবার সহজেই দূষিত হয়ে পড়ে।
ফলে ফুড পয়জনিং, বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এই সময় যতটা সম্ভব বাড়িতে তৈরি টাটকা, গরম ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই ভালো।
৩. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিন
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ত্বকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব শুকনো পোশাক পরে নিন এবং নিয়মিত স্নান করুন। খাবার খাওয়ার আগে ও বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। পায়ের আঙুলের ফাঁক, বগলসহ শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থান সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এমন খাবার খান
ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে।
তাই খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, সবুজ শাকসবজি এবং পুষ্টিকর খাবার রাখুন। এছাড়া দুধ বা চায়ে আদা, হলুদ, গোলমরিচ ও তুলসীর মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
৫. মশার বংশবিস্তার রোধ করুন
বর্ষাকালে জমে থাকা জলে মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। এর ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বাড়ির ছাদ, টব, কুলার বা আশপাশে কোথাও যেন জল জমে না থাকে, সেদিকে নজর রাখুন। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন এবং বাইরে বের হলে মশা প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করুন বা পুরো হাত-পা ঢাকা পোশাক পরুন।
মনে রাখবেন
বর্ষাকালে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় উপায় হলো পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতনতা। সামান্য সতর্কতা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে অনেক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

No comments:
Post a Comment