দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় নিয়মিত ওষুধ কিনতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়েন বহু মানুষ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা কিংবা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর আজীবন ওষুধের উপর নির্ভরশীল রোগীদের জন্য চিকিৎসার খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। এবার সেই বোঝা কিছুটা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার।
কেন্দ্রের অধীনস্থ ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি দেশের ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের খুচরো বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। ড্রাগস (প্রাইস কন্ট্রোল) অর্ডার, ২০১৩-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না। ইতিমধ্যেই ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে নতুন মূল্য অনুযায়ী প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল জীবনদায়ী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা। দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ যাতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন তালিকায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর শরীর যাতে প্রতিস্থাপিত অঙ্গ প্রত্যাখ্যান না করে তার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগে আক্রান্তদের অধিকাংশকেই বছরের পর বছর নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। ফলে প্রতি মাসে ওষুধের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। এই পরিস্থিতিতে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ বহু পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীরা এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই একজন রোগীকে একসঙ্গে একাধিক ওষুধ খেতে হয়। ফলে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে এলে চিকিৎসার সামগ্রিক খরচও কিছুটা কমবে।
ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে এই ওষুধ বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বাজারে যাতে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হয়, সে বিষয়েও নজরদারি চালানো হবে।
তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, ওষুধের দাম কমেছে বলে নিজে থেকে ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত ওষুধই সেবন করা উচিত।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সাশ্রয়ী ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এই উদ্যোগ আগামী দিনে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।

No comments:
Post a Comment