সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা(DA) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নির্ধারিত শুনানি বৃহস্পতিবার আর অনুষ্ঠিত হয়নি। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠার কথা থাকলেও শুনানি না হওয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি আরও কিছুটা সময়ের জন্য পিছিয়ে গেল। আদালত এখনও পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণা করেনি। এর আগে বুধবার রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে একটি স্থিতি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের বক্তব্য, কোষাগারের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ থাকায় এই মুহূর্তে একসঙ্গে সম্পূর্ণ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই আদালতের কাছে কিছুটা সময় এবং ছাড় চাওয়া হয়েছে।
রাজ্যের প্রস্তাব অনুযায়ী, আপাতত পনেরো শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, বাকি বকেয়া অর্থ দুই হাজার আঠাশ সালের মধ্যে চারটি কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ এককালীন অর্থ প্রদান না করে ধাপে ধাপে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা কীভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হবে, তার একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত সেই কমিটি প্রথমে পূর্বতন সরকারের সময় কাজ শুরু করে। পরে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতেই সর্বশেষ স্থিতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে রাজ্য সরকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা, মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নতুনভাবে পর্যালোচনা করবে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে কার্যকর মহার্ঘ ভাতার কাঠামোও খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হতে পারে। ফলে একদিকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলার রায়ের অপেক্ষা, অন্যদিকে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ—দুই বিষয়ই এখন সরকারি কর্মচারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন সকলের নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকে। একই সঙ্গে রাজ্যের জমা দেওয়া স্থিতি প্রতিবেদন এবং সপ্তম বেতন কমিশনের অগ্রগতি ভবিষ্যতে মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

No comments:
Post a Comment