রাম মন্দিরের অনুদান কাণ্ডে বিস্ফোরক মোড়! গ্রেফতার অভিযুক্তের ভাইয়ের নিশানায় ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তারা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, July 2, 2026

রাম মন্দিরের অনুদান কাণ্ডে বিস্ফোরক মোড়! গ্রেফতার অভিযুক্তের ভাইয়ের নিশানায় ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তারা


 অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চলা তদন্তে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া অন্যতম অভিযুক্ত রমাশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদবের ভাই দীনেশ যাদব দাবি করেছেন, প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতেই তাঁর দাদাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগের তির সরাসরি শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রের দিকে।

দীনেশ যাদবের দাবি, তাঁর দাদা প্রায় দুই দশক ধরে চম্পত রাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে কখনও কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ ওঠেনি। তাঁর কথায়, অনুদানের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রকৃত দায়িত্বশীলদের রক্ষা করতেই অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তাঁর দাদার নামে এক লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ চাপানো হলেও তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

তিনি আরও জানান, মামলাটি ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে অনেক আইনজীবী অভিযুক্তের পক্ষে দাঁড়াতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি সহায়তার জন্য তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত জুন মাসের শুরুতে, যখন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। প্রথমে ট্রাস্ট সেই অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

তদন্তে উঠে আসে, মন্দিরের দানবাক্স খোলা, অর্থ গণনা এবং সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এরপর মামলা রুজু করে তদন্তকারী সংস্থা দানবাক্স থেকে অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা আটজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রমাশঙ্কর যাদব, যিনি দীর্ঘদিন চম্পত রাইয়ের ব্যক্তিগত চালক হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে রমাশঙ্কর যাদবের কাছে একাধিক দানবাক্সের চাবি ছিল। তদন্তে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নগদ, বিদেশি মুদ্রা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দানবাক্স খোলা ও অর্থ গণনার পুরো প্রক্রিয়ার চিত্রগ্রহণ, উপস্থিত কর্মীদের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই চম্পত রাইয়ের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। মন্দির চত্বরে কর্মরত কয়েকশো বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীর ভূমিকা, উপস্থিতির নথি এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কোনও বৃহত্তর চক্র জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা।

এদিকে, এই বিতর্কের জেরে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আগামী বৈঠকে ট্রাস্টের প্রশাসনিক কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন এবং অভিযোগে নাম জড়ানো কয়েকজন পদাধিকারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তদন্ত এখনও চলমান। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং চম্পত রাই বা অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত আদালতে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে শুধুমাত্র তদন্তাধীন দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad