রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্কুলগুলিতে পরিবেশিত খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ আরও উন্নত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হাসপাতালের রোগীদের দৈনিক পথ্য খরচ এবং স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পের রান্নার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে গোটা রাজ্যে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের বরাদ্দে উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে রোগীদের জন্য বাড়ল পথ্য খরচ
সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের দৈনিক খাবারের বরাদ্দ এতদিন ছিল ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে। ফলে রোগীদের আরও পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে বলে সরকারের আশা।
স্কুলের মধ্যাহ্নভোজেও বাড়ছে বরাদ্দ
প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পে রান্নার খরচও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন মাথাপিছু দৈনিক বরাদ্দ ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। আগামী ১ আগস্ট থেকে তা বেড়ে হবে ১০ টাকা।
সরকার জানিয়েছে, অতিরিক্ত ৩ টাকা ২২ পয়সা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করা হবে। এর ফলে শিশুদের জন্য আরও পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন পর সংশোধন
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, হাসপাতাল ও স্কুলে খাবারের জন্য সরকারি বরাদ্দ সর্বশেষ সংশোধিত হয়েছিল ২০১৭ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লেও বরাদ্দ অপরিবর্তিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, বাড়তি বরাদ্দের ফলে হাসপাতালের রোগীরা উন্নতমানের পথ্য পাবেন এবং স্কুলের শিশুদেরও আরও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হবে, যা তাদের সুস্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

No comments:
Post a Comment