উত্তর চব্বিশ পরগনার নৈহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়কে বুধবার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাঁকে স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি হাজার পঁচিশ সালে নৈহাটি এলাকায় রাজনৈতিক হিংসার একটি মামলার তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি। অভিযোগ, ওই সময় বিজেপি কর্মীদের মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় তাঁর নাম তদন্তে উঠে আসে। সেই মামলার তদন্ত এগোনোর পরই পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই নৈহাটি পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, তৎকালীন পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়-সহ শাসক দলের একাধিক কাউন্সিলর দীর্ঘদিন পুরসভায় যাননি। ফলে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হয় এবং পুরসভার বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ কার্যত থমকে যায়। সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়তে থাকে।
এরই মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে হঠাৎ পুরসভায় হাজির হন অশোক চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় পুরসভা চত্বরে প্রবল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, একদল বিজেপি সমর্থক তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এবং পুরসভার ভেতরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। অশোক চট্টোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, স্থানীয় বিধায়কের অনুরোধেই তিনি পুরসভায় এসেছিলেন। কিন্তু সেই কথা বলার পরই বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর দিকে তেড়ে আসে এবং তাঁকে পুরসভা থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে পুরসভার কয়েকজন কর্মী এবং সংলগ্ন মাতৃসদনের কর্মীদেরও মারধরের অভিযোগ ওঠে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল।
এর আগেও অশোক চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর ছেলে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও পৃথক একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই নৈহাটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বুধবার অশোক চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই নৈহাটি-সহ গোটা উত্তর চব্বিশ পরগনার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছেন। তাঁকে কবে আদালতে তোলা হবে, পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হবে কি না এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

No comments:
Post a Comment