দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভ ও ছাত্র-যুব আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আন্দোলনের সময় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলির আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে কেন্দ্র সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (X) করা এক পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল কোনওভাবেই রাষ্ট্রের শত্রু নয়। বরং সংবিধান স্বীকৃত একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেক সরকারের দায়িত্ব। বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসনিক শক্তি বা ভয় দেখানোর রাজনীতি গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপেরও তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকার খর্ব করার যে কোনও প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়। দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
একইসঙ্গে কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচি ঘিরে একাধিক হামলা, মঞ্চ ভাঙচুর, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং দলীয় কর্মীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনার পেছনে বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতীরা জড়িত। যদিও বিজেপি এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দিল্লির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে পুলিশ আটক বা সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ছাত্র-যুবকদের দাবি ও আন্দোলনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনার পরিবর্তে প্রশাসনিক কড়াকড়ির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিরোধী দলগুলি গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরের মর্যাদা রক্ষার দাবি তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে। ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

No comments:
Post a Comment