পাঞ্জাবে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বিজেপি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে, অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা খুব শীঘ্রই নিজেদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
সম্প্রতি ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। যদিও পাঞ্জাব সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেভাগে ফাঁস হয়নি; বরং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেই প্রশ্ন বাইরে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হরজোট সিং-এর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দাবি করেছেন, তাঁর সরকারের আমলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও ঘটনা ঘটেনি। সরকার ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত ও প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে শিরোমণি অকালি দলও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছে। দলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না; পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।
এ বিষয়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, সম্প্রতি একটি আন্দোলন শেষ হয়েছে। এখন পাঞ্জাবের পরিস্থিতি নিয়ে দল নিজেদের রণকৌশল তৈরি করছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আগামী দিনে সরকার, বিরোধী দল এবং CJP কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

No comments:
Post a Comment