শুভেচ্ছার আড়ালে কড়া বার্তা, নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে মমতার রাজনৈতিক খোঁচা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, July 4, 2026

শুভেচ্ছার আড়ালে কড়া বার্তা, নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে মমতার রাজনৈতিক খোঁচা


 রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় দুই মাস কেটে গেছে। বর্তমানে রাজ্যের ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও নির্বাচনের ফলকে মানুষের প্রকৃত রায় হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ভোটে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার তিনি প্রথমবার প্রকাশ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। যদিও সেই শুভেচ্ছার মধ্যেও ছিল রাজনৈতিক কটাক্ষ এবং অতীতের নানা ঘটনার উল্লেখ।

একটি ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বর্তমান সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক থেকে শুরু করে জেলার পুলিশ কর্তাদেরও দলীয় স্বার্থে কাজে লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে এবং চাপ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

তৃণমূল নেত্রীর আরও অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিজেপিতে যোগ না দিলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া বা গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এই বক্তব্যের মধ্যেই তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর শুভকামনা রইল। তবে একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থানে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, অতীতে নির্বাচনে শুভেন্দু পরাজিত হলে দলের পক্ষ থেকে তাঁর পাশে দাঁড়ানো হয়েছিল এবং বিভিন্ন সময় তাঁর কেন্দ্রে গিয়ে প্রচারও করেছিলেন তিনি। সেই দায়িত্ব পালনকে কখনও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব হিসেবে দেখেননি বলেও মন্তব্য করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, দীর্ঘ সময় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। পরিবহণ, সেচসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক কাজেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই অতীত কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না বলেই তাঁর মন্তব্য।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, যাঁরা দীর্ঘদিন দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তাঁদের অনেকেই এখন রাজনৈতিক অবস্থান বদলে অন্য শিবিরে চলে গিয়েছেন। অথচ যাঁরা শুরু থেকেই দলের হয়ে সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের ওপরই প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা বলেন, সংগ্রামই তাঁর জীবনের মূল শক্তি। যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, ততদিন মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁকে নিয়ে নানা কটূক্তি ও মৃত্যুকামনার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যক্তি নয়, আদর্শই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে এবং আগামী প্রজন্ম সেই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক লড়াই যে অব্যাহত থাকবে, সেই বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad