বিতর্কিত ও দেশবিরোধী স্লোগানকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনও মিছিল বা সমাবেশে 'ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে' বা 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি'-র মতো স্লোগান উঠলে তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাঁর অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক শক্তির মদতে দেশবিরোধী মানসিকতাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আইন মেনেই ব্যবস্থা নিতে হবে। মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রেখেই যারা দেশবিরোধী স্লোগান দেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে পারে।
শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ তাঁর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পুলিশের।
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, যদি কোনও ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করেন বা দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকেন, তাহলে পুলিশ তদন্ত করবে, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং আদালতের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণপিটুনি বা হিংসার হুমকি নয়, আইনের শাসনই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

No comments:
Post a Comment