‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার আড়ালে আর্থিক অনিয়ম, চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং চিকিৎসার গাফিলতির মতো একাধিক গুরুতর বিষয় সামনে এসেছে। এই আবহে শুক্রবার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সরকারিভাবে বিবৃতি আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা দাবি করেন, তাঁর এলাকায় সেবাশ্রয় শিবিরের জন্য দীর্ঘদিন একটি খেলার মাঠ ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই অস্থায়ী পরিকাঠামো সরিয়ে মাঠ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করছে বলেও তিনি দাবি করেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমগুলির পরিষেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।
বিধায়ক আরও দাবি করেন, শিবির সংলগ্ন এলাকা থেকে ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। তবে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কোনও বেআইনি কার্যকলাপ জড়িত কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, সেবাশ্রয় সংক্রান্ত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানানো প্রয়োজন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করছে। তাঁর বক্তব্য, যিনি ওই কক্ষের সদস্য নন, তাঁকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় আলোচনা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে সংসদে বিষয়টি তোলা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ‘সেবাশ্রয়’ শিবির চালু হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসতেন। পরবর্তীকালে এই প্রকল্পকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে।
এর মধ্যে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকজন রোগী চিকিৎসার পর গুরুতর শারীরিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সমস্ত অভিযোগের অনেকগুলিই এখনও তদন্তাধীন। আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

No comments:
Post a Comment