২১ জুলাই রাজ্যের রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই বড়সড় অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ, কলকাতাসহ মোট ৮টি স্থানে একযোগে তল্লাশি শুরু করেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আগে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডি সূত্রে দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখাত। অভিযোগ, বেশি টাকা দিলে সরকারি সুবিধা দ্রুত এবং বেশি পরিমাণে পাওয়া যাবে— এমন আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
তদন্তে কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যও হাতে এসেছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে হওয়া আর্থিক লেনদেনের উৎস ও অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কার কার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকায় চারটি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তে উঠে আসা কয়েকজনের নামের মধ্যে বনগাঁর বাসিন্দা অভিজিৎ ও রাহুলের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছেও কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিজিৎ কর্মসূত্রে গত মাসে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। অন্যদিকে রাহুলের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তদন্তকারীরা তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় গোটা এলাকা ঘিরে রাখেন।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বেশি সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। একটি এফআইআরের ভিত্তিতে শুরু হওয়া মামলার সূত্র ধরেই এখন আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে ইডি।
উল্লেখ্য, ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হওয়ায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে, ফলে আগামী দিনে এই মামলায় আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

No comments:
Post a Comment