"বাংলাদেশে ফিরলেই মৃত্যু নিশ্চিত!" শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্য হুমকি, সরগরম রাজনীতি - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, July 12, 2026

"বাংলাদেশে ফিরলেই মৃত্যু নিশ্চিত!" শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্য হুমকি, সরগরম রাজনীতি


 বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনা একটি রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকার শাসক দল, বিরোধী দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) দাবি করেছে যে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।



ডিসেম্বরে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শেখ হাসিনা একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে তিনি তার দলের নেতা ও কর্মীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দেশে ফিরে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করার কথাও বিবেচনা করতে পারেন। তার এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং বিভিন্ন দল এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এনসিপির মৃত্যুদণ্ড আরোপের দাবি

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরেন, তবে আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশের মুখোমুখি হওয়ার জন্যই তার ফেরা উচিত।

তিনি বলেন, আদালতের রায় ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং এখন আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা এবং বিচারিক আদেশ কার্যকর করা সরকারের দায়িত্ব। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং যেসব মামলার বিরুদ্ধে আদালত এমন রায় দিয়েছে, সেসব সব ক্ষেত্রেই আইন সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত।


সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে

এনসিপি আরও বলেছে যে, শেখ হাসিনা কখন ও কীভাবে বাংলাদেশে ফিরবেন, সেই সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারেন না। দলটি বলেছে, এটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের বিষয় এবং প্রয়োজনে সরকারের উচিত কূটনৈতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা।

দলীয় নেতারা দাবি করেছেন, সরকার যেন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে বিচারিক সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।

বিএনপি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছে

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পুরো বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধান করা উচিত। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ইতোমধ্যেই আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান আছে।

রিজভী বলেন, আদালত ইতোমধ্যেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসের সহিংসতা ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে রায় দিয়েছে, এবং অন্যান্য মামলার শুনানি এখনো চলছে। তার মতে, কোনো ব্যক্তির ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করা আদালতের এখতিয়ার এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের হাতেই থাকা উচিত।

ষড়যন্ত্রের সন্দেহে জামায়াতে ইসলামী

এদিকে, শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডা বা কৌশলের অংশ হতে পারে।

তিনি দাবি করেন, এই বক্তব্যের পেছনে একটি "অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিকল্পনা" থাকতে পারে, যার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো উন্মোচিত হয়নি। তবে তিনি প্রকাশ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত বক্তব্য আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিভক্ত করেছে। যেখানে তার সমর্থকরা তার প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, সেখানে বিরোধী দলগুলো এটিকে বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার সঙ্গে যুক্ত করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি শেখ হাসিনা সত্যিই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তবে তা দেশের রাজনীতি, আইন-শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad