বিধানসভার প্রশিক্ষণ শিবিরে শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ, নবীন বিধায়কদের দায়িত্বের কড়া পাঠ দিলেন ওম বিড়লা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, July 3, 2026

বিধানসভার প্রশিক্ষণ শিবিরে শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ, নবীন বিধায়কদের দায়িত্বের কড়া পাঠ দিলেন ওম বিড়লা


 নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে লোকসভা সচিবালয়ের গণতন্ত্র বিষয়ক সংসদীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হল দু'দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা-সহ বহু বিধায়ক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবীন বিধায়কদের সংসদীয় রীতি-নীতি মনোযোগ দিয়ে শেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছে সংসদীয় কার্যপ্রণালি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আজ যে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক মত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ রয়েছে, তার পেছনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান অনস্বীকার্য।

এরপরই তিনি বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। বাম আমলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পার্টি কার্যালয় থেকে নেওয়া হতো বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি গত পনেরো বছরের শাসনকালেও বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদদের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্ব দেওয়া হতো না এবং সর্বত্র রাজনৈতিক পরিচয়ই প্রধান হয়ে উঠেছিল।

বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়নি। এমনকি বিধানসভায় তাঁর বক্তব্য আটকাতে একাধিকবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে দলমত নির্বিশেষে বিরোধী দলের বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য ও এলাকার সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে শোনারও আশ্বাস দেন তিনি।

অন্যদিকে, লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা তাঁর বক্তব্যে নবীন বিধায়কদের সংসদীয় শিষ্টাচার, দায়িত্ববোধ এবং অধ্যবসায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, বর্তমান বিধানসভায় বিপুল সংখ্যক তরুণ প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে ওম বিড়লা বলেন, বিধানসভার অতীতের কার্যবিবরণী, বিতর্ক এবং বিশিষ্ট আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে পড়া ও শেখা উচিত। অধিবেশনে যত বেশি সময় উপস্থিত থাকা যাবে, তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ না পেলেও প্রবীণ সদস্যদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনা একজন জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক বিধায়কের মনে সবসময় একটি প্রশ্ন থাকা উচিত—নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য নতুন কী করা যায়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সমস্যার কথা বিধানসভায় তুলে ধরাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রসঙ্গ তুলে ওম বিড়লা বলেন, একসময় এই বাংলাই গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছিল। তাঁর আশা, ভবিষ্যতেও বাংলা সেই গৌরবময় অবস্থান পুনরুদ্ধার করবে এবং দেশের কাছে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, সরকার কোনও বিষয়ে একমত হোক বা না হোক, একজন বিধায়কের প্রধান কর্তব্য হল নিজের এলাকার মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে বিধানসভায় তাঁদের দাবি, সমস্যা এবং প্রত্যাশার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad