ভারতের রেল পরিবহণে শুরু হল এক নতুন যুগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেন। এই ট্রেন জিন্দ থেকে সোনিপত রুটে চলবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আত্মনির্ভর ভারতের জন্য আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।" তাঁর মতে, এই প্রকল্প শুধু ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণই নয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতারও প্রমাণ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, হাইড্রোজেন ট্রেন ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থা। ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় এটি অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব, কারণ এর ইঞ্জিন থেকে কালো ধোঁয়া বা ক্ষতিকর কার্বন নির্গমন হয় না। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে ট্রেনটি চলে এবং এর উপজাত হিসেবে মূলত জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। ফলে বায়ুদূষণ কমাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প 'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং 'আত্মনির্ভর ভারত' উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশে তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত এখন বিশ্বমানের রেল পরিষেবা গড়ে তুলছে। ভবিষ্যতে দেশের আরও বিভিন্ন রুটে হাইড্রোজেন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
হাইড্রোজেন ট্রেনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
ডিজেলের পরিবর্তে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে চলবে।
চলার সময় ধোঁয়া বা কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রায় নেই।
পরিবেশবান্ধব ও শক্তি-সাশ্রয়ী।
শব্দ দূষণও তুলনামূলকভাবে কম।
ভবিষ্যতের সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো কার্বন নিঃসরণ অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। রেলওয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবহণ ব্যবস্থা হওয়ায়, সেখানে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ব্যবহার পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ডিজেলের ওপর নির্ভরতাও কমবে।
জিন্দ ও সোনিপত রুট কেন বেছে নেওয়া হল?
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, পরীক্ষামূলকভাবে এই রুটে হাইড্রোজেন ট্রেন চালানো হবে। এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, জ্বালানি ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে অন্যান্য রুটেও এই প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বে বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্যেও ভারত আত্মনির্ভরতা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। তিনি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী কী বললেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জিন্দের মাটি ইতিহাসের সাক্ষী। আজ এখান থেকেই ভারতের রেল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সামনে নতুন উদাহরণ তৈরি করছে।"
ভারতীয় রেলের এই হাইড্রোজেন ট্রেন প্রকল্পকে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফল হলে আগামী কয়েক বছরে দেশের আরও বহু রুটে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব ট্রেন চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

No comments:
Post a Comment