ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসেই চাপে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়! ‘প্রজেক্ট মেঘালয়’ ঘিরে তামিলনাড়ুতে তীব্র রাজনৈতিক ঝড় - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, July 17, 2026

ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসেই চাপে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়! ‘প্রজেক্ট মেঘালয়’ ঘিরে তামিলনাড়ুতে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়


 তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন উত্তাল। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকার পতনের কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘প্রজেক্ট মেঘালয়’ নামে পরিচিত এই বিতর্ক ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর। ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেপ্তার, পুলিশি তদন্ত, সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত টিভিকে-র উথানগরাই কেন্দ্রের বিধায়ক এন. ইলাইয়ারাজার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর দাবি, বিধানসভায় নিজের দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে ৩৫ কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে চেন্নাই পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং টিভিকে-র একাধিক বিধায়ককে বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দলত্যাগে উৎসাহিত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় ১৫ জন বিধায়ককে টার্গেট করা হয়েছিল। পরিকল্পনা সফল হলে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারত এবং মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সরকার সংকটে পড়ত। এই কথিত পরিকল্পনার সাংকেতিক নামই ছিল ‘প্রজেক্ট মেঘালয়’।

পুলিশের তদন্তে থিরুনাভুক্কারাসু নামে এক ইউটিউবারকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ‘আইপিডিএস’ নামে একটি জনমত জরিপ সংস্থা পরিচালনা করতেন এবং সরকার ফেলার পরিকল্পনার সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখছে।

তদন্তের জেরে বিতর্ক আরও বাড়ে যখন একটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রবীণ সাংবাদিক বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য মিলেছে, তাই তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

সাংবাদিককে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফোন বাজেয়াপ্ত করার ঘটনায় চেন্নাই প্রেস ক্লাব তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনও এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে বিরোধী দল ডিএমকে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক চাপে পড়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে জনমত ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ডিএমকে-র একাধিক নেতা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

অন্যদিকে টিভিকে সরকারের বক্তব্য, সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিধায়কদের ভাঙানোর চেষ্টা হয়েছে এবং সেই কারণেই তদন্ত গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকার দাবি করেছে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে সরকার নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করছে। ফলে আগামী দিনে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। অভিযোগগুলির বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে আইনত দোষী বলা যায় না। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে ‘প্রজেক্ট মেঘালয়’ বিতর্কের প্রকৃত চিত্র।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad