১৬ অগস্টে আর ‘খেলা হবে দিবস’ নয়, রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, July 13, 2026

১৬ অগস্টে আর ‘খেলা হবে দিবস’ নয়, রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’


 আগামী ১৬ অগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় বিজেপির একটি সাংগঠনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ওই দিনই বর্তমান রাজ্য সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হবে।

মেচেদায় তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতা-কর্মীদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে মণ্ডল সভাপতি ও বিভিন্ন মোর্চার নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। পরে জেলার কোর কমিটির সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে সাংগঠনিক কর্মসূচি, বুথভিত্তিক প্রস্তুতি এবং দলীয় কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পুরো বৈঠক প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে চলে।

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৬ অগস্ট শুধুমাত্র সরকারের ১০০ দিনের মাইলফলক নয়, কলকাতার ইতিহাসেও দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সুরাবর্দির আমলে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যা ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে পরিচিত, সংঘটিত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকার যে দিনটিকে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালন করত, বর্তমান সরকার সেই দিনটিকে এবার থেকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করবে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর বাস্তবায়নের বিষয়টিও জড়িত। বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পশ্চিমবাসী এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি চালু হওয়ায়, সরকারের ১০০ দিন পূর্তির সঙ্গে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ ঘোষণাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় ১৬ অগস্ট ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালিত হত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘খেলা হবে’ ছিল তৃণমূলের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান। নির্বাচনে জয়ের পর ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৬ অগস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা করেছিলেন। যদিও ওই তারিখটি বেছে নেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ সে সময় সরকারিভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad