একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একই দিনে কলকাতায় একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় বিভিন্ন শিবির এখন সাংগঠনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে শুক্রবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
জেলাভিত্তিক প্রস্তুতিতে জোর
সূত্রের খবর, বৈঠকে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় বিভিন্ন জেলা থেকে কত সংখ্যক কর্মী ও সমর্থক কলকাতায় পৌঁছতে পারবেন, সেই পরিকল্পনার ওপর। জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে সম্ভাব্য উপস্থিতির হিসাব নেওয়া হয় এবং সমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় দায়িত্বও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকে একাধিক নেতার উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বৈঠকের পর কয়েকজন পরিচিত নেতার সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৃথক আলোচনা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ ব্যাজ ব্যবহারের পরিকল্পনা
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যাজ বা পরিচয়পত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। জেলা নেতৃত্বের হাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যাজও তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংগঠনের দাবি, এতে কর্মীদের চিহ্নিত করা এবং সমাবেশের ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ব্যাজ ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিবিরের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কোনও কারণ জানানো হয়নি।
জনসমাগম নিয়েই মূল লড়াই
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের লক্ষ্য, সমাবেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। সূত্রের দাবি, কয়েকটি জেলা থেকে কয়েকশো থেকে কয়েক হাজার মানুষ আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবেই সাংগঠনিক পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও তাদের নির্ধারিত একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচির প্রস্তুতি জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে একই দিনে কলকাতার রাজপথে দুই পক্ষের শক্তি প্রদর্শন রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
সবার নজর একুশে জুলাইয়ে
একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিতে কোন শিবির কতটা জনসমর্থন দেখাতে পারে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। প্রশাসনের কাছেও দিনটি আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাই সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

No comments:
Post a Comment