রাজ্যের বহুচর্চিত পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োগ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের স্ত্রী এবং তাঁর দুই পুত্রকে আগামী সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, মামলার তদন্তে উঠে আসা কয়েকটি আর্থিক লেনদেনের সূত্রে তাঁদের নাম সামনে এসেছে। সেই কারণেই এই তলব বলে জানা যাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে মদন মিত্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছিল প্রয়োগ অধিদপ্তর। কলকাতা ও শহরতলির একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে নথি, ডিজিটাল তথ্য ও বিভিন্ন আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীরা বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিন যন্ত্র ও নথি বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন বলেও জানা যায়।
এই মামলার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে। অভিযোগ, যোগ্যতার নির্ধারিত নিয়ম না মেনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে বহু প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় ঠিকাদার অয়ন শীলের নামও উঠে আসে এবং তাঁর গ্রেফতারের পর তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তীকালে একাধিক পুরসভা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে প্রয়োগ অধিদপ্তর। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বিপুল সংখ্যক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে এবং চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে একটি বড় দুর্নীতির চক্র গড়ে উঠেছিল। তদন্তে কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এই অভিযোগগুলিও বর্তমানে বিচারাধীন।
তদন্তকারীদের মতে, আর্থিক লেনদেনের উৎস, অর্থের গতিপথ এবং কারা সেই অর্থের সুবিধাভোগী ছিলেন, তা জানতেই একের পর এক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মদন মিত্রের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মদন মিত্র অতীতেও প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচার ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করবে।

No comments:
Post a Comment