নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান: কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়ে রয়েছে দেহ। দেখে চেনার উপায় নেই। এমনই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেল দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায়। কর্মরত এক ঠিকা শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া। মৃতের নাম শেখ শহিদুল। প্রতিদিনের মতো এদিনও কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরা হল না। ইস্পাত কারখানার ২ নম্বর ব্লাস্ট ফার্নেসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল তাঁর।
শুক্রবার রাতে কারখানার ব্লাস্ট ফার্নেস এলাকায় কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত শ্রমিকের নাম শেখ শহিদুল। তিনি আরতি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, এদিন রাতের শিফটে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ব্লাস্ট ফার্নেস বিভাগে কাজ করছিলেন শহিদুল। তখনই রড ভেঙে গরম স্ল্যাগ ভর্তি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে যায়। গভীর রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। সহকর্মীরা গিয়ে দেখতে পায় তাঁর ঝলসানো দেহ। নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সহকর্মীরা। ভবিষ্যতে তারাও এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন, এই আশঙ্কায় সরব হয়েছেন তাঁরা।
শনিবার সকাল থেকেই কারখানার বাইরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ক্ষতিপূরণের দাবী তোলেন। বিক্ষোভকারীদের দাবী, পরিবারের একজন সদস্যকে অবিলম্বে অস্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে, উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবীও জানান তাঁরা।
মৃত শ্রমিকের সহকর্মী মনোজ রুইদাস জানান, "আমরা দু'জনে একসঙ্গে কাজ করছিলাম। আমি কিছুক্ষণ বাইরে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি শহিদুলকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। পরে জানতে পারি, সে ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে মারা গিয়েছেন। ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমি দেখিনি। তবে মনে হচ্ছে, কোনও রড ভেঙে যাওয়ায় তিনি নিচে পড়ে যান।”
এদিকে ঘটনার জেরে কারখানার শ্রমিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

No comments:
Post a Comment