'ফিরে এলে এক ঘন্টার মধ্যে---', তৃণমূলের বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ অভিষেকের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, July 18, 2026

'ফিরে এলে এক ঘন্টার মধ্যে---', তৃণমূলের বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ অভিষেকের


কলকাতা: বিদ্রোহীদের দলে যারা নাম লিখিয়েছেন, তাঁরা ফিরে এলে এক ঘন্টার মধ্যে তিনি ইস্তফা দেবেন, এভাবেই দলের বিক্ষুব্ধ শিবিরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে যখন সমস্যা তখন বিদ্রোহী নেতানেত্রীরা ফিরে এলে পদ ছেড়ে দিতে তাঁর আপত্তি নেই। অবশ্য অভিষেক এও দাবী করেছেন, তাঁর এই প্রস্তাবে কোনও বিক্ষুব্ধই সাড়া দেবেন না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যই বিজেপি-র সঙ্গে ডিল হয়েছে বিদ্রোহী নেতাদের। 


শনিবার কালীঘাটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, 'যাঁদের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা যদি বলেন যে, দলের এই পারফরম্যান্সের জন্য বা পরাজয়ের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী হয়, তাহলে ২০২৪ (লোকসভা নির্বাচন)-এ তৃণমূল কংগ্রেস যে ২৯ টা আসন পেয়েছে, তার কৃতিত্বও আমার। যদিও হারের দায় আমার হয়, তাহলে জেতার কৃতিত্ও আমার।'


অভিষেক বলেন, "আমাকে নিয়ে যাঁদের সমস্যা, তাঁদের অনুরোধ করব। আজকে ১৮ তারিখ, আপনি (বিদ্রোহীরা) ১৯, ২০ বা ২১ তারিখ আসুন। যবে আসার আসুন, আজকেই চলে আসুন। আপনারা ফিরে আসুন আমি ১ ঘন্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি।"


এরপরেই তৃণমূল সাংসদ বলেন, "কেউ আসবে না। কারণ ডিল হচ্ছে ওদিকে যাও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি দাও। তোমাকে বাঁচিয়ে রাখব, ইডিও ধরবে না, সিবিআই-ও ধরবে না।" অভিষেকের কটাক্ষ, "যাদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ তাঁরা এখন হয় পুলিশের কাছে ধৃত, নাহলে 'বালিশ চাটা' ঋতব্রত।"


নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ভেঙে চুরমার তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গীরা। কেউ দলটাই ছেড়ে দিয়েছেন। অধিকাংশই আবার এই শিবির বদল বা দল ছাড়ার কারণ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েই অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। দলের মধ্যে অভিষেকের ক্ষমতাসীন হয়ে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের জন্য অভিষেক এবং আইপ্যাক-কেই দায়ী করেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারা। এমনকি, এখনও মমতার তৃণমূলে যাঁরা রয়েছেন সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারাও তৃণমূলের এই অবস্থার জন্য নাম না করে অভিষেককেই দায়ী করেছেন। 


এছাড়াও সদ্য ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দেওয়া মদন মিত্র পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন দলের এই পরিস্থিতির জন্য। তাঁর বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। এমনকি শুক্রবারেই অভিষেকের বিরুদ্ধে সূর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও এক আস্থাভাজন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবহেই অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জ রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, এতদিন ধরে সকলের নিশানায় থাকার পর এবার দলত্যাগী নেতাদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দলে নিজের জায়গা আরও একবার স্পষ্ট করতে চাইলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad