কলকাতা: ফিরহাদ, চন্দ্রিমারা আগেই হাত ছেড়েছেন, এবারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন বীরভূমের একদা দাপুটে নেতা তথা মমতার স্নেহধন্য কেষ্ট তথা অনুব্রত মণ্ডল। মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রতদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন তিনি। সূত্রে এমনটাই খবর। শুধু তাই নয়, অনুব্রত মণ্ডল সহ একগুচ্ছ নেতা-কর্মী যোগ দিতে চলেছেন ঋতব্রত শিবিরে। আরও আছে, এবারে নতুন বা আসল তৃণমূল যাই হোক না কেন, সেই শিবিরের বীরভূমের জেলা সভাপতি হচ্ছেন অনুব্রত। আর শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণাও হয়ে যাবে এটি।
সূত্রের খবর, শুধু কেষ্ট নন। বীরভূমের দাপুটে চার নেতা কাজল শেখ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ সিংহ, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরে। এতে করে কার্যত বীরভূমের দখল নিল ‘নতুন তৃণমূল’। এই বিষয়ে অনুব্রতকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমার জ্বর। আগামীকাল কলকাতায় যেতে পারি।” এর বেশি কিছু বলেননি কেষ্ট।
শক্তি পরীক্ষা করতে ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হচ্ছে তপসিয়ার বোট ক্লাবে। শুক্র ও শনিবার এই দুই দিন ধরে বৈঠক। সূত্রে খবর, বীরভূম জেলার দায়িত্ব পাচ্ছেন অনুব্রত। তৃণমূল আমলে গরুপাচার মামলায় শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছিল কেষ্টর। তাঁর জেলযাত্রার কিছুদিন পরেই তাঁকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পরে যদিও কোর কমিটি তৈরি করে সেটার আহ্বায়ক হিসাবে রাখা হয়েছিল কেষ্টকে।
কিন্তু জেল থেকে ফিরে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন অনুব্রত। বিধানসভা নির্বাচনের পর উষ্মা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। ভোটে নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। ততদিনে তৃণমূল দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে। ‘নতুন তৃণমূল’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ঋতব্রত শিবির। সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল তাহলে কি বীরভূমের ‘বাঘ’ যোগ দেবেন ঋত-শিবিরে? তখন উত্তর না মিললেও এবার মিলল সেই খবর। ঋতব্রত শিবিরের বীরভূমের জেলা সভাপতি হচ্ছেন তিনি।
শুক্রবার বিধানসভায় এসেছিলেন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে তিনি ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতের সঙ্গে বৈঠক করে যান তিনি। সূত্রের খবর, তার পরেই বিধানসভা থেকে ঋতব্রত শিবিরের এক বিধায়ক অনুব্রতকে ফোন করেন। সূত্রের খবর, ওই সময়েই ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের বিষয়ে পাকা কথা হয়ে যায়।
সূত্রের আরও খবর, শুক্রবার দুপুরে ফোনে কথা বলার সময়েই তাঁকে বীরভূম জেলা সভাপতি পদে বসানোর জন্য অনুব্রতের সম্মতি চাওয়া হয়। তিনিও সম্মতি দিয়েছেন। শনিবার ঋতব্রত শিবিরের কর্মসমিতির বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে বসবেন ঋতব্রতর তৃণমূলের নেতারা। সেখানেই অনুব্রতকে জেলা সভাপতির পদ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হবে।
আরও জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বীরভূমের দাপুটে চার নেতা কাজল শেখ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ সিংহ, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও-এই চারজন ‘নতুন তৃণমূলে’র জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য হয়েছেন।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর পরপর ধাক্কা খাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একসময়ের সহযোদ্ধারা দিদি'কে ছেড়ে অন্য শিবিরে ভিড়েছেন। পরিষদীয় ও সংসদীয় দল, দুইই হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর। এবারে কিনা প্রিয় কেষ্ট'ও মমতার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন!

No comments:
Post a Comment