দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় গ্ৰেফতার মূল অভিযুক্ত। ধৃতের নাম আনন্দ সর্দার। সোমবার বেলায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর করে এই ঘটনায় গ্ৰেফতারের সংখ্যা বেড়ে হল ৩। আগেই এই নৃশংস ঘটনায় দু'জনকে গ্ৰেফতার করা হয়েছিল। পাশাপাশি আটক করা হয় তিনজনকে। তদন্তের জন্য ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিন আনন্দ সর্দারকে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্ৰেফতার করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। বারুইপুরের ঘটনায় পরিবার যা চাইছে, সব হবে বলে সোমবারই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাবালিকাকে অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে বলেও জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে বারুইপুর ও লাগোয়া এলাকায় বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা লাগু হয়েছে। বারুইপুর, সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় এই ধারা লাগু করা হয়েছে।
ঘটনার সাথে সম্পর্কিত প্রথম সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর তদন্ত গতি পায়, তদন্তকারীরা নতুন সূত্র পায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে নাবালিকা একটি পথ ধরে হাঁটছিল। ভিডিওতে তার সাথে একজন পুরুষকেও হাঁটতে দেখা যায়। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে ফুটেজটি খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ফুটেজটি মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১১ বছরের এক নাবালিকা। রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই নিয়ে সকালে থেকে বারুইপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে। কুলপি রোডে নাবালিকার মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ হয়। প্রায় ঘন্টাখানেক শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন অবরোধ চলে। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের ওপরে হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার কথা জানতে পেরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার পরিবারকে ভবানীভবনে ডেকে পাঠান তিনি।
বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার তদন্ত চলছে জোরকদমে। রবিবার একজনকে গ্রেফতারের পর সোমবার আরও দুজনকে গ্রেফতার করা করল পুলিশ। পাশাপাশি তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাবালিকার মৃত্যুর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাঁদেরও খোঁজ চলছে।
নাবালিকার মৃত্যুতে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশি নিরাপত্তায় কলকাতার কাটাপুকুর মর্গে নিয়ে আসা হয় নাবালিকার দেহ।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের মারে গুরুতর জখম অবস্থায় এক যুবককে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে, মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নাবালিকাকে খুনের অভিযোগের মামলার পাশাপাশি, গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগেও দুটি পৃথক মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment