'অপরাধ দমনে পুলিশের হাত কাঁপবে না, সেটা প্রমাণ হয়েছে', বারুইপুর এনকাউন্টার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, July 9, 2026

'অপরাধ দমনে পুলিশের হাত কাঁপবে না, সেটা প্রমাণ হয়েছে', বারুইপুর এনকাউন্টার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ

 


কলকাতা: বারুইপুর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু। এই প্রসঙ্গে এবারে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ।‌ সেখানেই একাধিক এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন তিনি। 


সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'এনকাউন্টার হয়েছে বাংলায় সম্ভবত প্রথমবার। নকশাল আমলে হতো। আমরাও এনকাউন্টার করতে চাই না। কিন্তু যখন উত্তরপ্রদেশ, বিহারে এনকাউন্টার হচ্ছিল, আজ সেখানকার মানুষ শান্তিতে আছেন, তখন এখানকার যারা সরকার ছিল, টিএমসি, আমরা এনকাউন্টার চাই না বলতে বলতে সমস্ত দুষ্কৃতকারীদের মাথায় তুলেছিল। তাই আজকে ওইসব অপকর্মগুলো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশও চাইলে সবকিছু করতে পারে, এটা আমরা ভুলে গিয়েছিলাম। পুলিশ সেজন্য হিম্মত করেছে, মানুষের আশা-আকাঙ্খা সামনে রেখে।"


দিলীপ ঘোষ বলেন, "অপরাধের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স এটা আমরা বলেছি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেমন অভিযুক্তদের ধরেও নিয়েছে, যখন পালাতে গিয়েছে, উৎপাত করেছে, তখন গুলি চালাতেও দ্বিধাবোধ করেনি। সেজন্য অপরাধ দমনে পুলিশের হাত কাঁপবে না, সরকার পিছিয়ে যাবে না, সেটা প্রমাণ হয়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীও দেখিয়েছেন যে, কীভাবে নিজে স্পটে দাঁড়িয়ে আইন শৃঙ্খলাকে ঠিক করতে হয়। বিরোধীরা যেমন ছবি তুলতে গিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরাও স্পটে গিয়ে সাধারণ মানুষ-সহ আন্দোলনকারী, পীড়িতার পরিবার সকলের সঙ্গে কথা বলেছেন। একটা সরকারের এটাই হওয়া উচিৎ।"


"অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে পৃথিবীতে। এত তাড়াতাড়ি বন্ধ হবে না। কিন্তু সরকার যদি সচেষ্ট হয় তাহলে অনেক কিছু হতে পারে। এটা বিহার, উত্তরপ্রদেশে আমরা দেখিয়েছিলাম। আজ পশ্চিমবাংলায় সেই পিরিয়ডটা শুরু হয়েছে", সংযোজন মন্ত্রীর। 


উল্লেখ্য, বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে চার অভিযুক্তকে। বসিরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কবীর মোল্লাকে। এর আগে প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে চার জনেরই টাওয়ার লোকেশন ছিল ঘটনাস্থলের। 


ইতিমধ্যেই প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে এনকাউন্টারে। বারুইপুরের ঘটনায় সবার প্রথমে এই প্রভাস মণ্ডলকেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে, বারবার ভুলভাল বয়ান দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল এই অভিযুক্ত। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য এই অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। আচমকাই পুলিশের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় প্রভাস এবং পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রভাসকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।


এদিকে বারুইপুরে পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও গণপিটুনির ঘটনায় আরও ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে এই ৮ জনকে। ৮ জুলাই বুধবার এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ১৮ জনকে। পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও গণপিটুনির ঘটনায় গ্রেফতারি এই নিয়ে বেড়ে হল ২৬ জন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad