আশ্রয় কেন্দ্রের ভগ্নপ্রায়-জরাজীর্ণ দশা! বন্যা কবলিত এলাকায় কষ্টের ছবি, সমাধান চাইছেন স্থানীয়রা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, July 10, 2026

আশ্রয় কেন্দ্রের ভগ্নপ্রায়-জরাজীর্ণ দশা! বন্যা কবলিত এলাকায় কষ্টের ছবি, সমাধান চাইছেন স্থানীয়রা


নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদে আশ্রয়ের নিয়ে আসা হয় তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ফ্লাড সেন্টার। আর সেই ফ্লাড সেন্টারের বেহাল দশা। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রটি। এই চিত্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের। ছাব্বিশের নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। হয়তো এবার হাল ফিরবে আশ্রয় কেন্দ্রের, আশায় ঘাটাল বানভাসি এলাকার মানুষ।


প্রতি বছর বর্ষায় শিলাবতী নদীর জলে প্লাবিত হয় ঘাটাল। সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে ঘাটালের বন্যা। জমা জলে গৃহবন্দী হয়ে পড়েন লক্ষাধিক মানুষ। আবার অনেক মানুষকেই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আসে প্রশাসন। এছাড়াও বর্ষার শুরুতেই বন্যার প্রস্তুতি শুরু করে দেয় জেলা প্রশাসন।  


এই বন্যার কথা মাথায় রেখেই ঘাটাল ব্লকে মোট চারটি ফ্লাড সেন্টার তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যে ঘাটাল ব্লকের অজবনগর এক গ্রাম পঞ্চায়েতের পান্না গ্রামে ২০০৮ সালে বন্যা দুর্গতদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল একটি আশ্রয় কেন্দ্র। অথচ বেশ কয়েক বছর ধরে সেই আশ্রয় কেন্দ্রটির বেহাল দশা। ছাউনি উড়ে গিয়েছে, ভাঙা দরজা-জানালা। একপ্রকার থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েছে সেটি। 


জরাজীর্ণ এই আশ্রয় কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয় ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতি। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে কোনও সাহায্যই মেলেনি বলে জানিয়েছেন ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। তবে, এবারে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আর এতে করেই আশার আলো দেখছেন ঘাটালের বানভাসী এলাকার মানুষ। এবার হয়তো হাল ফিরবে বেহাল আশ্রয় কেন্দ্রটির, এমনটাই আশা তাঁদের।


স্থানীয়দের দাবী, নতুন করে এই আশ্রয় কেন্দ্রটি তৈরি করে দেওয়া হোক। স্থানীয় বাসিন্দা চন্দনা দেবীর কথায়, "আমরা চাইব এটা বানানো হোক। আয়লা ঝড়ের সময় থেকে সব ভেঙেচুরে আছে। এরপর আর মেরামত হয়নি। বন্যা হলেও ব্যবহার করা হয়নি কেন্দ্রটি। যে সরকারই বানাক, পয়সা খরচ করে মানুষের ভালোর জন্যই তো বানানো হয়েছিল, কিন্তু সেটাই যদি না হয়, তাহলে কী করে হয়!"


স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শঙ্কর বলেন, "বর্তমানে এই কেন্দ্রটি ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে। বর্ষাকাল দোরগোড়ায়। আমরা গ্ৰামবাসীরাও চাইছি, সরকার থেকে যেন এটা বানিয়ে দেয়।" তিনি জানান, আয়লা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কেন্দ্রটি। এরপর থেকেই এমন ভগ্নদশায় পড়ে রয়েছে। কেউ আর এখানে থাকতে পারেন না। এটা বানিয়ে দিলে খুব ভালো হয়‌।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad