ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৭ জুলাই ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। এই সময় তিনি চীনের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য চুরি করেছে। তাঁর ভাষণে ট্রাম্প অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, কিছু আধিকারিক এবং ‘ডিপ স্টেট’ চীন-সম্পর্কিত এই বিষয়টি গোপন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, এ ধরণের তথ্য চুরি মার্কিন নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। তিনি আরও বলেন যে, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও নিরাপদ নয়।
হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক প্রাইম-টাইম টিভি ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “২০২০ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে বিগত কয়েক বছর ধরে চীন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের নির্বাচনী তথ্য কারচুপি করেছে। এর ফলে চীন অবৈধভাবে ২২ কোটি আমেরিকান ভোটারের ফাইল সংগ্রহ করেছে।”
ট্রাম্প দাবী করেছেন যে, ২০২০ সালের নির্বাচনকে দুর্বল করার জন্য চীন "ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্য কারসাজি" করেছে এবং "ডিপ স্টেট"-এর সদস্যরা তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য এক নজিরবিহীন ও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা একটি নির্ভুল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা হতে "মারাত্মকভাবে ব্যর্থ" হয়েছে।
তিনি বলেন, "প্রত্যেক আমেরিকান নাগরিকের এটা জানার অধিকার আছে যে, যখন তাঁরা ভোট দেবেন, সেই ভোট সিস্টেমে নির্ভুলভাবে গণনা করা হবে। আর লক্ষ্য হল সেই সিস্টেমকে সুরক্ষিত করা – এমন একটি সিস্টেম যেখানে জালিয়াতি এবং হস্তক্ষেপ শুধু কঠিনই নয়, কার্যত অসম্ভব। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের বর্তমান ব্যবস্থাটি সেই মানদণ্ডে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ।"
তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ভাষণে মার্কিন নির্বাচন কারচুপি ও চুরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও, তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে কোনও ভোট পরিবর্তন বা কারচুপি করা হয়েছিল এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি বা দাবীও করেননি। তবে, তিনি ২০২০ সালের ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল বলে দাবী করেছেন।
চীনের মার্কিন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়। সাইবার বিষয়ক জাতীয় গোয়েন্দা আধিকারিক ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, চীনা গোয়েন্দা আধিকারিকরা "জনমত বিশ্লেষণ" করার জন্য বেশ কয়েকটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এই প্রতিবেদনটি ২০২২ সালে আংশিকভাবে (সম্পূর্ণরূপে নয়) অবমুক্ত করা হয়েছিল।
এটাও উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প এবং তার সহযোগীরা ৬০টিরও বেশি মামলা দায়ের করেছেন, কিন্তু এগুলোর কোনওটিতেই এমন কোনও রায় আসেনি যা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট জালিয়াতি প্রমাণ করে। পুনঃগণনা, নিরীক্ষা, এমনকি তার নিজের বিচার বিভাগও এমন কোনও অনিয়ম খুঁজে পায়নি।
ধারণা করা হয় যে, ইরান যুদ্ধের কারণে নিজের হ্রাসমান জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্প উদ্বিগ্ন এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা করছেন। ফলস্বরূপ, তিনি খোদ মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থা যে সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অকার্যকর, তা প্রমাণ করার জন্য অসংখ্য কথিত তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেছেন। তিনি এই তথ্যপ্রমাণ ব্যবহার করে দাবী করেছেন যে, তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন কিন্তু তা তাঁর কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর মাধ্যমে ট্রাম্প এও দাবী করছেন যে, নভেম্বরে দেশে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনও কারচুপি ও চুরির ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যদি না ভোটদান ব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়, যা ভোটারদের জন্য ভোট দেওয়া অত্যন্ত কঠিন করে তুলবে।
ট্রাম্প এক পর্যায়ে জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন কংগ্রেসকে অবশ্যই "সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট" পাস করতে হবে। তিনি এই আইনটিকে একটি বিচক্ষণ সংস্কার হিসেবে বর্ণনা করেন, যা রিপাবলিকানদের প্রতিটি নির্বাচনে জিততে সাহায্য করবে। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন যে, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিটিই ত্রুটিপূর্ণ এবং তিনি এই প্রক্রিয়ার ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।

No comments:
Post a Comment