ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ জুলাই ২০২৬: পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই তাঁর এই পদক্ষেপ। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবীতে দিল্লীর যন্তর মন্তরে বেশ কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চলছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং বেশ কয়েকটি বিরোধী দলও একই দাবী জানাচ্ছিল। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই পদত্যাগ। এদিন সিজেপি-র সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগেই পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। অর্থাৎ ককরোেচ জনতা পার্টির প্রতিটি দাবীই মেনে নিল সরকার। '
শনিবার বেলায় তিনি ইস্তফা দেন। সেই পদত্যাগপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন তিনি। আমার প্রিয় যুবসাথীরা' সম্বোধন করে তিনি লিখেছেন, 'গত ১০দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন ভারাক্রান্ত'। তিনি লেখেন, 'এটি আমার জন্য ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়। ভারতের যুবরাই এই দেশের প্রকৃত শক্তি। আমি দেশের যুবদের মোহের দুষ্টচক্রে পড়তে না দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং তাদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ভারতের যুবপ্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া আমাদের সকলের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি নৈতিক অঙ্গীকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জির দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতির সেবা করার যে সুযোগ আমি পেয়েছি, তার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীজির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'
তিনি আরও লেখেন, '৩ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় যে অনিয়ম সামনে আসে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভারত সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয় এবং পরীক্ষাটি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা সিবিটি পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।'
তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি এই ঘটনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনও নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। তাঁর সংকল্প ছিল, কোনও মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা যেন পরীক্ষা মাফিয়ার কারণে নষ্ট না হয় এবং কোনও শিক্ষার্থীর সঙ্গে যেন অন্যায় না হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, "এই সময়ে, আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল ২০ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিশ্চিত করা। এটি অর্জনের জন্য একটি সর্বাত্মক সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। ভারত সরকার, রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে জেলা প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এছাড়াও, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং পিতামাতার সহযোগিতায় পরীক্ষাটি ২১শে জুন, ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনও পিছপা হইনি। আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম যে, পরীক্ষার মাফিয়াদের দ্বারা কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে দেব না কিংবা কোনও ছাত্রছাত্রীর প্রতি অবিচার হতে দেব না।"
তিনি লেখেন, "১৬ই জুলাই ঘোষিত নিট-ইউজি-এর ফলাফল সন্তোষজনক ছিল, যেখানে দরিদ্র পরিবার থেকে আসা অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী সাফল্য অর্জন করেছিল। তবে, এই সময়েও, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা অনেক ছাত্রছাত্রীর পথে বাধা সৃষ্টি করার এবং তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, যাতে মন গভীরভাবে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত।"
তাঁর সংযোজন, "আমি দেশের যুবসমাজকে বিভ্রান্তির ফাঁদে পড়তে দেব না। আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, যন্তর মন্তর ও সারাদেশের পরিস্থিতিকে দেশবিরোধী শক্তিগুলো কাজে লাগাতে দেব না, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখব, এটা নিশ্চিত করব যে একজনও ভারতীয় ছাত্রের ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং আমাদের সন্তানেরা যেন তাদের সময় পড়াশোনায় উৎসর্গ করে ও নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোনিবেশ করে। এই কথা মাথায় রেখেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।"
পরিশেষে তিনি এও জানান, দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সকল উপায়ে তিনি নিজেকে সমর্পণ করবেন।


No comments:
Post a Comment