ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ জুলাই ২০২৬: সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মোদী সরকার। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার তিক্ততা নিরসন এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ভারতের এই পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারত এ বছর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লীতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য বা পর্যবেক্ষক দেশ না হওয়া সত্ত্বেও ভারত তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বাংলাদেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) পাঠানো হয়েছে।
তারেক রহমান এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর দল বিএনপি সরকার গঠন করার পর এটিই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথও প্রশস্ত হবে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী মোদীও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে তাঁকে ভারতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যিনি ফেব্রুয়ারিতে রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে, ক্ষমতায় আসার পর রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতের পরিবর্তে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিয়েছিলেন।
মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রায় ১৫ মাসব্যাপী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতেই বসবাস করছেন এবং তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার ক্রমাগত দাবী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। তারেক রহমানের চীন সফরকে তাঁর 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির অংশ হিসেবে দেখা হয়েছিল, যা ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়া শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রনীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে রহমানের ভারত সফর বিভিন্ন দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে-
গঙ্গা জল চুক্তি (১৯৯৬): এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬-এ শেষ হবে। এই সময়সীমার আগে উভয় দেশকে এর নবায়ন খসড়া নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত করতে হবে।
বড় ধরণূর কূটনৈতিক পরিবর্তন: উভয় দেশই তাদের সম্পর্ক জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। ভারত সম্প্রতি বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় তাঁদের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যা একটি রাজনৈতিক নিয়োগ এবং এই সম্পর্কের প্রতি ভারতের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। এদিকে, বাংলাদেশ বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর পরিবর্তে আসাদুল্লাহ আলম শ্যামকে নয়াদিল্লীতে তাঁদের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

No comments:
Post a Comment