'এটা জঙ্গলরাজ', বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টার নিয়ে তোপ মহুয়ার - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, July 8, 2026

'এটা জঙ্গলরাজ', বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টার নিয়ে তোপ মহুয়ার


কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকাকে নৃশংস ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তাল বাংলা। এই আবহেই মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ঘটনায় আসে নাটকীয় মোড়। এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবারে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। এই ইস্যুতে বঙ্গ বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। 


সমাজমাধ্যমে তিনি তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। বুধবার সকালে এক্স পোস্টে মহুয়া লেখেন, “বারুইপুর ধর্ষণ-খুনের মামলার অভিযুক্ত এনকাউন্টারে নিহত! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, রাজ্যে কী চলছে? বাঙালিরা নতুন বাংলা-উত্তরপ্রদেশ ২.০-কে স্বাগত জানান। এটা হল জঙ্গলরাজ।”


উল্লেখ্য, পুলিশের এনকাউন্টারে মঙ্গলবার গভীর রাতে মৃত্যু হয়েছে বারুইপুর ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবী, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রায় ১২টা ৪৫ নাগাদ প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরে ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের কথায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রভাস আচমকাই পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে। তাকে বারবার সতর্ক করা হলেও সে নির্দেশ অমান্য করে দৌড়াতে থাকে। এমনকি এক পর্যায়ে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।


বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রথমই প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাসকে জেরা করেই বাকি অভিযুক্তদের হদিশ মিলেছিল। তবে, মৃত যুবক বারবার বয়ান বদল করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। শেষ পর্যন্ত এদিন এনকাউন্টারে মৃত্যু হল প্রভাসের।


একদিকে পুলিশের দাবী, অন্যদিকে এনকাউন্টার ঘিরে ওঠা নানা প্রশ্ন- এই দুই দিকই তদন্তের আওতাধীন। সরকারি তদন্ত এবং ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্ট প্রকাশের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত পুলিশের কড়া নজরদারিতে বারুইপুরের পরিস্থিতি। ঘটনার সত্যতা ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব বিরোধী দলগুলোও। তবে প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, আইন মেনেই যথাযথ তদন্ত চলছে এবং দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।


উল্লেখ্য, বারুইপুর কাণ্ডে মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় এর আগে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার ও প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। বসিরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে।পাশাপাশি গণপিটুনি ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জনকে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad