কলকাতা: তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ৪৪০ কোটি টাকা 'ফ্রিজ়' করার নির্দেশ দিয়েছে ইডি। তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় মঙ্গলবার কলকাতার পাঁচ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এরপর বুধবার এই নির্দেশ। এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে আর্থিক লেনদেনে কোনও অনিয়ম করা হয়েছে কি না সে ব্যাপারে তদন্ত করে দেখতে চাইছে ইডি। এদিকে ইডির এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল। তাঁদের দাবী, তৃণমূলের কোনও টাকা অবৈধ নয়।
মমতার তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দলের ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে ইডি। তা নিয়ে বিবৃতিও জারি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের অভিযোগ, তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা সব টাকা বৈধ।
ইডির পদক্ষেপের নিন্দা করে তৃণমূলের তরফে বুধবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়, 'দলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। দলের সমস্ত অনুদানের লেনদেন যথাযথভাবে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং আয়কর দফতরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য প্রতি বছর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এবং তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। ইলেক্টোরাল বন্ড-সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যও ইতিমধ্যেই ভারতের সরকারের কাছে রয়েছে। কারণ, এই বন্ডগুলি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ইস্যু করেছিল এবং পরে সেগুলির তথ্য সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে।'
এরপরই ইডিকে আক্রমণ করে মমতা শিবির। তাদের অভিযোগ, 'কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এই স্বেচ্ছাচারী ও বেআইনি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করছি।' রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সময়ও বারবার সিবিআই, ইডির মতো তদন্তকারী সংস্থাকে আক্রমণ করত তৃণমূল। এখনও সেই একই অভিযোগ জোড়াফুল শিবিরের।
এক্স হ্যান্ডেলে তারা লেখে, 'রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা বিজেপির রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আঘাত নয় বরং সমান রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নীতিকেও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।'
উল্লেখ্য, একটি বিশেষ চার্টার বিমান সংস্থার সঙ্গে লেনদেনের বিষয়টি ইডির তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি সূত্রে খবর, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ওই চার্টার্ড বিমান সংস্থাকে ১৬০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল। ওই সংস্থা একটি এমব্রায়ার লিগেসি জেট ৬০০ এবং একটি অগস্তা ওয়েস্টল্যান্ড ১০৯ এসপি হেলিকপ্টার কেনার জন্য সেই টাকা ব্যবহার করে। ইডির তরফে বিবৃতিতে দিয়ে বলা হয়, ওই জেট বিমান এবং কপ্টার তৃণমূলকেই 'ভাড়া' দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে টাকাও নেওয়া হয়েছিল। সেই বিষয়টি নিয়েই তদন্ত করতে চায় ইডি। এরপরেই তৃণমূলের এই বিবৃতি।


No comments:
Post a Comment