ইউক্রেনে পারমাণবিক হামলায় করতে চেয়েছিলেন পুতিন! বাধা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, July 15, 2026

ইউক্রেনে পারমাণবিক হামলায় করতে চেয়েছিলেন পুতিন! বাধা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৫ জুলাই ২০২৬: পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ তেওফিল বার্তোশেভস্কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি তিনি একটি চাঞ্চল্যকর দাবীও করেছেন। বার্তোশেভস্কি বলেছেন যে, ২০২২ সালের শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনে সামরিক পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে রুখতে প্রধানমন্ত্রী মোদী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন গুরুত্ব সহকারে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথা শোনেন এবং তাঁর মতামতকে সম্মান করেন।


একটি সংবাদ সম্মেলনে বার্তোশেভস্কি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশ্বের একজন সম্মানিত ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, "রাশিয়ার সাথে এবং তার আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ভারতের দীর্ঘকাল ধরে সুসম্পর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথায় সত্যিই মনোযোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই অল্প কয়েকজন নেতার মধ্যে একজন যিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে প্রভাবিত করতে পারেন। ভারত চাইলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ২০২২ সালের শেষে ইউক্রেনে সামরিক পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করতেও প্রধানমন্ত্রী মোদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।"



তিনি পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার বিষয়ে ভারতের অবস্থানেরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ভারতের গৃহীত পদক্ষেপ সঠিক। ভারত একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ দেশ, যার অর্থনীতি তেল ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তিনি উল্লেখ করেন যে, পোল্যান্ডও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের অগ্রাধিকার হল একটি কূটনৈতিক সমাধান। তিনি আরও বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতোই পোল্যান্ডও সংলাপ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যদিও এখন পর্যন্ত এর প্রভাব সীমিত।


রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছিল এবং এখনও চলছে। এদিকে, গত মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতকে একটি "মহান দেশ" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করে বলেন যে, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সমস্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। 


যুক্তরাষ্ট্রকে পরোক্ষভাবে নিশানা করে পুতিন বলেন, "রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে ভারতকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপর যেকোনও ধরণের চাপ আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। এই চাপ কোন দেশ থেকে আসছে, তা বিবেচ্য নয়।"


প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন যে, ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতি এবং এর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার অন্যতম দ্রুততম। তার মতে, এই সাফল্য আপনাআপনি আসেনি বরং এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকারের নিরন্তর কঠোর পরিশ্রম এবং নীতির ফল। পুতিন আরও বলেন যে, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে একটি বিশেষ ও সুবিধাজনক কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা আরও মজবুত করতে উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad