নেপালে আবারও জেন-জি বিদ্রোহ! বালেন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আত্মাহুতি ৩ যুবকের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, July 12, 2026

নেপালে আবারও জেন-জি বিদ্রোহ! বালেন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আত্মাহুতি ৩ যুবকের


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০২৬: নেপালে আবারও বিদ্রোহের আগুন। নতুন সরকারের বিরুদ্ধে এবারে জেন-জি আন্দোলন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় আছড়ে পড়েছে। গত তিন দিনে তিনজন যুবক পেট্রোল ঢেলে আত্মাহুতির পথে হেঁটেছেন। এঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন চিকিৎসাধীন। ভূমিহীন বস্তিবাসীদের বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) শত শত মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।


এই নতুন করে জেগে ওঠা ক্ষোভের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক কারণটি ঘটেছিল ২০২৬ সালের জুলাই মাসের শুরুতে, যখন ২৫ বছর বয়সী গণেশ নেপালি (মূলত মুগুর বাসিন্দা) কাঠমান্ডুর পাসপোর্ট দফতর ভবনের কাছে আত্মাহুতি দেন। এবারের প্রতিবাদগুলো নেপালের কাঠমান্ডু পৌর পুলিশের বিরুদ্ধে শুরু হয়।


ইউনাইটেড ন্যাশনাল ল্যান্ডলেস ফ্রন্টের আয়োজিত এই বিক্ষোভটি কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে অবস্থিত মাইতিঘর মণ্ডলে অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা "গরীবদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন," "মানবাধিকারকে সম্মান করুন," "অবৈধ গ্রেফতার বন্ধ করুন," এবং "ভূমিহীন বস্তিবাসীদের আশ্রয় দিন"- এর মতো স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান। এদিকে, শুক্রবার রাতে কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে একটি সরকারি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্র প্লাবিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৫০ জন ভূমিহীন বস্তিবাসী বাস করতেন।


জেন-জি-র সঙ্গে যুক্ত যুব কর্মীরা ঘটনাটি তদন্ত করতে শনিবার (১১ জুলাই, ২০২৬) সেখানে পৌঁছলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং গ্রেফতার করে। একজন কর্মী মুখে আঘাত পেয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। নেপালি কংগ্রেস সভাপতি গগন কুমার থাপা পুলিশের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মীদের গ্রেফতারের সমালোচনা করেছেন এবং ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করেছেন।


অন্যদিকে, ১২ জুলাই কোশি প্রদেশের মোরাং জেলা পুলিশ অফিসের প্রধান ফটকে জেন-জি কর্মীদের ওপর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদ করার সময় পুলিশ ২৬ জনকে গ্রেফতার করে। এর আগে, এপ্রিলে সরকার কাঠমান্ডু উপত্যকাসহ দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে ভূমিহীনদের বস্তি ও অন্যান্য অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙে উচ্ছেদ করেছিল। এই পদক্ষেপটি ২,৬০০ পরিবারের ১৫,০০০-এরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করেছে।


এদের মধ্যে ৩২৫টি পরিবার কাঠমান্ডুর বিভিন্ন অংশে স্থাপিত অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রগুলিতে বাস করছিল। ২ জুলাই, সরকার ভূমিহীন বস্তিবাসীদের ৬ জুলাইয়ের মধ্যে এই অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রগুলি খালি করার নির্দেশ দেয়। তবে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি পরিবার সেখানে বসবাস করছিল।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে নেপালে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলনকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম যুব আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেপাল সরকারের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষের কারণে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। আন্দোলনটি দ্রুত কাঠমান্ডুসহ সমগ্র নেপালে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়, সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়। ব্যাপক জনচাপের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং নতুন সাধারণ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়।


এই পুরো আন্দোলন চলাকালীন, কাঠমান্ডুর জনপ্রিয় প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন শাহ নামেও পরিচিত, একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন। তাঁর দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি, যুবদের মধ্যে জনপ্রিয়তা এবং প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তাঁর তীব্র বিরোধিতা তাঁকে ব্যাপকভাবে সুবিধা এনে দেয়। তাঁর দল ২০২৬ সালের মার্চ মাসের সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে, যার ফলস্বরূপ ২০২৬ সালের ২৭শে মার্চ শাহ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন। এই আন্দোলন এমন একটি রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেছিল যা পুরোনো নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং একজন যুবকে দায়িত্বে বসায়। ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই জনগণ বালেন শাহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে এবং পূর্ববর্তী জেন জি আন্দোলনের মতোই, এখন বালেন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad